Recent Updates Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 3:30 am on February 26, 2020 Permalink | Reply  

    মাদখালী কাকে বলে? 

    মাদখালি – তাদের পরিচয় ও পথভ্রষ্টতা
    মাদখালি কারা?
    আল মাদাখিলা বা মাদখালিরা হল এমন এক ফিরকা যারা নিজেদেরকে সালাফি বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। রাবী’ ইবনে হাদী আল-মাদখালি এর নামানুসারে এই নামকরণ হয়। যেমন আশ’আরীদের “আল-আশা’ইরাহ” নামকরন করা হয় ইমাম আবুল হাসান আশআরী এর নামানুসারে।

    “মাদখালি” ছাড়া আরও বিভিন্ন নামেও তাদের ডাকা হয়ে থাকে, যেমন –

    জামিইয়্যাহ: আফ্রিকান আলিম মুহাম্মাদ আমান আল-জামি এর নামানুসারে এই নামকরন করা হয়। বস্তুত এই ব্যক্তির মাধ্যমেই উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এই ফিরকার উদ্ভব হয়। তাদের শুরতে উদ্দেশ্য ছিল জাযিরাতুল আরবে আমেরিকান সেনা মোতায়েনের সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেসব আলিম ও দা’ঈ অবস্থান নিয়েছিলেন (যেমন সাফার আল-হাওয়ালি, সালমান আল-আওদাহ ও সাহওয়াহ আন্দোলনের অন্যান্য আরো অনেকে) যেকোন মূল্যে তাদের বিরোধিতা করা ও তাদের গ্রহনযোগ্যতা নষ্ট করা। তবে মুহাম্মাদ আল-জামি, রাবী’ আল-মাদখালির মত সুপরিচিত নন, এছাড়া তিনি নব্বইয়ের দশকেই মারা যান এবং তার পথভ্রষ্টটা রাবী এর মত এত চরম ছিল না।

    সালাফিয়্যাহ জাদীদাহ: নব্য সালাফী/নিও সালাফি

    জামাআতুত তাবদী’ ওয়াল হিজরাহ: কারন এই ফিরকার মানহাজ হল অন্যদেরকে বিদআতী হিসাবে আখ্যায়িত করে এবং তাদেরকে বয়কট করা।

    আদিয়্যাহ আস সালাফিয়্যাহ: সালাফী দাবিদার।

    খুলূফ: অর্থাৎ পরবর্তীতে আগত দল… মুসলিম শরীফের এ হাদীস

    “তারপর ‘খুলূফ’ এর আগমন ঘটবে, যারা এমন কথা বলবে যা তারা বাস্তবে করবে না, এবং এমন কাজ করবে যা আদেশ করা হয়নি, সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে যারা নিজ হাত দ্বারা জিহাদ করবে সে একজন মু’মিন হিসাবে চিহ্নিত হবে… ইত্যাদি”। এ হিসাবে এই নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

    সালাফিয়্যুন আহল আল ওয়ালা: সরকারের সাথে ওয়ালা (বন্দুত্ব/মৈত্রী) রাখা সালাফি (সরকারি সালাফি)। মাদখালিদের এক উপদলই সাহওয়াহ আন্দোলনের শাইখদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করতে সউদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে এই নাম ব্যবহার করেছিল। পরবর্তী সময় এই গ্রুপের বিরোধিতা করতে এই নামটি কিছু আলিমদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে।

    মুরজিয়াতুল আসর: নব্য মুরজিয়া, এ যুগের মুরজিয়া। প্রকৃত ব্যাপার হল ‘ইরজা’ এর দূষিত আদর্শ ব্যাপকভাবে তাদের অনুগামীদের মাঝে প্রচলিত হয়েছে। যদিও এটি তাদের সবচেয়ে প্রধান ও অন্যান্য বৈশিষ্ট না।

    তবে এ নামগুলোর মধ্য থেকে আমরা বরং তাদেরকে ‘মাদখালি’ বলে ডাকবো। কারণ পূর্ব-পশ্চিমে যে ব্যক্তি এই দূষণ ছড়িয়েছে সে হল রাবি’ আল মাদখালি। আল্লাহ তাকে তার উচিৎ প্রতিদান দিন। আর সে তাদের আলিমদের মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত।

    তাদের সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট (তবে তাদের সবচেয়ে খারাপ বৈশিষ্ট্য এটি না) হল হিসাবে ‘জারহ’ এবং ‘তাবদী’ সম্পর্কে তাদের ক্ষতিকর চরমপন্থী অবস্থান। কোন হাদীস বর্ণনাকারী বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের কারনে উক্ত বর্ণনাকারী সম্পর্কে দোষ নিরূপন করাকে ‘জারহ’ বলা হয়। যেন কার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করা যাবে আর কার কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবেনা এটা নির্ধারন করার ক্ষেত্রে এটি হাদীস বিশেষজ্ঞদের জন্য দরকারী একটি শাস্ত্র। পরবর্তী প্রজন্মে কার নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করা হবে আর কার নিকট থেকে করা হবে না, তা নির্ধারনের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে। আর ‘তাবদী’ হল কোন ব্যক্তিকে বিদ’আতি হিসাবে আখ্যায়িত করা।

    জারহ ও তাবদী’র ব্যাপারে তাদের চরমপন্থী অবস্থানের সবচেয়ে প্রকাশ্য উদাহরন হল – “যে বিদ’আতিকে বিদ’আতী বলে ঘোষণা করেনা সে নিজেই বিদ’আতী” – এই নীতির ভুল প্রয়োগ। তারা এই নীতিতে ঠিক ঐভাবে ব্যবহার করে যেভাবে খারেজিরা “যে কাফিরকে কাফির ঘোষণা করেনা সেও কাফির” – এই সঠিক নীতির ভুল প্রয়োগ করে থাকে।

    গড়পড়তা এবং সাধারণ মাদখালিদের (সাধারণ মানুষ অথবা আলিম) এই চরমপন্থী চেইন তাবদী’ এর শুরু হয় উস্তাদ সায়্যিদ কুতুব রাহিমাহুল্লাহ-কে দিয়ে। “যে বিদ’আতীকে বিদ’আতী হিসাবে আখ্যায়িত করবে না সে নিজে বিদ’আতী”। সুতরাং যে সায়্যিদ কুতুব এর ‘তাবদী’ (তাঁকে বিদ’আতী হিসাবে ঘোষণা করা) থেকে বিরত থাকবে সে নিজে একজন বিদ’আতী। এভাবে তাদের বিদ’আতী আখ্যা দেয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না পৃথিবীতে তাদের দলের কয়েকজন সদস্য ছাড়া বাকি সকলের নামই “বিদ’আতী”-দের খাতায় চলে যায়।

    তাদের চরমপন্থার অবস্থা তো এমন যে, তাদের মধ্যে পূর্ববর্তী আহলুল বিদআহর বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে, যা হল তাদের এই ফিরকা ভেঙ্গে ভেঙ্গে আরও অনেক উপদল তৈরি হয়েছে। যেমন কিছু ব্যক্তি কিছু কিছু বিষয়ে রাবি’ এর পক্ষাবলম্বনকারী। আবার কিছু ব্যক্তি মিশরের আবুল হাসান আল মা’রিবী এর পক্ষাবলম্বনকারী। বিভক্তির সূচনা হয়েছে যখন আবুল হাসান আল মা’রিবী যখন কিছু ব্যক্তিদেরকে বিদ’আতী আখ্যা দেয়া থেকে বিরত থাকে (এছাড়া আরও কিছু কারন ছিল)। তখন আল-মা’রিবী বিদ’আতি হিসাবে ঘোষিত হয়। যারা আবুল হাসান আল-মা’রিবীকে বিদ’আতী আখ্যায়িত করা থেকে বিরত থাকে তাদেরও বিদ’আতি আখ্যা দেওয়া হয়। জর্ডানি মাদখালিরা – যারা নিজেদের শাইখ আলবানীর ছাত্র বলে দাবী করে। তবে এ দাবী মিথ্যা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। শাইখ আলবানীর ঘনিষ্টজনদের মধ্যে আবু মালিক মুহাম্মাদ ইবরাহীম শাক্বরাহ এ দাবিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, এ নিজেও একজন প্রক্তন মাদখালি) – এদের অন্তর্ভুক্ত।

    মাদখালিদের বিদ’আহ ও পথভ্রষ্টতার অন্তর্ভুক্ত হল –
    এই বিশ্বাস রাখা যে, মানবরচিত আইন প্রনয়ন, শরীয়াহ দিয়ে শাসন করা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকা, অথবা শরীয়াহ দিয়ে শাসনের বিরোধিতা বা একে প্রতিহত করা, তাগুতের কাছে বিচার প্রার্থনা করা, এ সবই কেবল ছোট কুফর। তারা মনে করে যে এসব কাজ শুধুই ছোট কুফর আর এসব কাজ কাউকে দ্বীন থেকে বের করে দেয় না, ইস্তিহলাল ব্যতীত। ইস্তেহলাল হচ্ছে কোন গুনাহকে হালাল মনে করা। সুতরাং তারা ইস্তিহলাল এর শর্তারোপ করে কুফর আকবর ও শিরকে আকবরকে ছোট কুফর এবং চুরি, ব্যভিচার, মদ্যপান ইত্যাদির মত গুনাহ এর সমতুল্য সাব্যস্ত করে।
    কোন ব্যক্তিকে মুসলিম হিসাবে ফায়সালা দেয়ার জন্য আ’মাল বিল আরকান তথা ‘কাজে পরিণত করা’ এটা ঈমানের অংশ বা শর্ত কোনটাই নয়। সুতরাং তাদের মতে কোন ব্যক্তি যদি কখনো সালাত আদায় না করে, কখনো যাকাত আদায় না করে, কখনো সিয়াম পালন না করে, হজ্ব না করে, কখনো ওযু করে না, কখনো তাহারাত অর্জন না করে ইত্যাদি, তারপরও সে মুসলিম হিসাবে সাব্যস্ত হবে। এবং শেষপর্যন্ত তার ইসলাম নাকি তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবে। এমন ব্যক্তিকে তারা শুধুমাত্র একজন গুনাহগার হিসাবে আখ্যায়িত করবে। কাফির নয়। সুতরাং তারা এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মুরজিয়াদের অনুসরণ করেছে।উল্লেখ্য যে তাদের অনেকে তাত্ত্বিক আলোচনার সময় এসব বিষয় অস্বীকার করে এবং আহলুস সুন্নাহর কথা নকল করে। কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের এই জঘন্য আকিদা অনুযায়ী-ই সিদ্ধান্ত দেয়। অর্থাৎ তাদের মুখের কথা বা রচনাবলীতে তারা নিজেদের আহলুস সুন্নাহ হিসাবে উপস্থাপন করে কিন্তু তাদের কাজ প্রমান করে যে তারা মুরজিয়াদের মাযহাবের উপরে আছে।
    পার্থিব জীবনের নিয়মকানুন সংক্রান্ত বিষয়ে উজর বিল জাহল বা অজ্ঞতার অজুহাতের অতিরঞ্জিত ব্যবহার। কাজেই যে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে, সর্বাবস্থায়, সকল প্রেক্ষাপটে তারা তাকে মুসলিম সাব্যস্ত করে থাকে। সুতরাং তাদের কাছে উসুলুদ্দিন, জুরুরিয়াতে দ্বীন, আর খাফি অর্থাৎ যেসব বিষয়ে অপেক্ষাকৃত কম স্পষ্ট – সেগুলোর কোন পার্থক্য নেই। দ্বিনের মৌলিক ভিত্তি, দ্বীনের যেসব বিষয় জানা আবশ্যিক আর যেসব বিষয় সুক্ষ ও অপেক্ষাকৃত অপষ্ট – সবকিছুই তাদের কাছে সমান। সবকিছুর ব্যাপারে হুকুম একই। মাদখালিদের মতে, যে ব্যক্তি মুসলিমদের মাঝে বড় হয়েছে আর যে হয়নি – তাদের দুইজনের ক্ষেত্রেই অজ্ঞতা একইরকম আর অজ্ঞতার অজুহাত একইরুম। অজ্ঞতার অজুহাত দেওয়ার ক্ষেত্রে দুইজনেই তাদের কাছে সমান। একজন নও মুসলিম আর যে নও মুসলিম না – এই দুইজনের ক্ষেত্রেও তাদের মতে অজ্ঞতার মাত্রা ও অজুহাতের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই। যদি এরা বিভিন্ন স্পষ্ট কুফর ও শিরক আকবরে পতিত হয় তাহলেও সর্বাবস্থায় মাদখালিদের মতে এরা মুসলিম, কারন “অজ্ঞতার অজুহাতের সম্ভাবনা”! তাদের এই বিভ্রান্তি তাউয়িলের (ভুল ব্যাখ্যা) এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর এই তাউয়িলের অজুহাত দিয়ে তারা এমন অনেক শাসকের জন্য অজুহাত দাড় করায় যারা নিজেদের মানবরচিত আইন রচনার ক্ষেত্রে ইস্তিহলালের কথা সরাসরি মুখে ঘোষণা করেছে অথবা সেকুলারিজমের মতো সুস্পষ্ট ও নির্ভেজাল কুফরের কথা বলে শরীয়াহ দ্বারা শাসনকে অস্বীকার করেছে।
    কাফিরদের সাথে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওয়ালা (মৈত্রী/বন্ধুত্ব) –কে তারা কুফর আকবর মনে করে না, যদি না সে ব্যক্তি কুফরকে অন্তরীণ করে। অর্থাৎ ব্যক্তি যদি কুফরের ধর্মকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক অথবা আল্লাহর দ্বীনকে নির্মূল করতে ইচ্ছুক না হয়, তাহলে মাদখালিদের মতে কুফফারের সাথে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওয়ালা কুফর আকবর না। সুতরাং কেউ যদি ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রুসেডে নেতৃত্ব দেয়, সম্পদ এবং রক্ত দ্বারা এতে সমর্থন-সহযোগিতা করে – তারপরও সে মুসলিম হিসাবেই থেকে যাবে! যতক্ষন পর্যন্ত না সে ব্যক্তি মুখে তার অন্তরের কুফরের ইচ্ছা অন্তরীন থাকার কথা ঘোষণা করবে না ততোক্ষণ এসবকিছু করার পরও এ লোককে মুসলিম গণ্য করা হবে! সুতরাং তাদের এই নবউদ্ভাবিত শর্ত পূর্ণ হওয়া ছাড়া তারা আসলে এই কাজগুলোকে কুফর মনে করে না।
    তারা বিশ্বাস করে যে জিহাদ কখনোই সমগ্র মুসলিম উম্মাহর উপর ফরযে আইন হতে পারেনা। এছাড়াও জিহাদের ব্যাপারে তারা আরো বিশ্বাস করে যে একটি ইসলামী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও এই রাষ্ট্রের ইমামের অনুমতি ছাড়া কোন ধরনের জিহাদ জায়েজ নেই। ইমামের নির্দেশ ছাড়া তারা জিহাদকে নিষিদ্ধ মনে করে। এবং এসবই তারা রক্ষণাত্মক জিহাদের ব্যাপারে মনে করে।

    মুরতাদ শাসক ও তাদের সেনাদের যারা তাকফির করে তাদেরকে মাদখালিরা ‘খারেজি’ বা ‘তাকফিরি’ আখ্যায়িত করে। এ সকল মুরতাদ শাসকদের আনুগত্য ত্যাগ করা, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে মাদখালিরা নিষিদ্ধ মনে করে, এবং এতে বাঁধা দেয় – কারন তারা এসব শাসকদের মুসলিম শাসক মনে করে। এমনকি যদি তারা ইছু কিছু শাসককে কাফিরও মনে করে, তবুও তারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদকে অবৈধ মনে করে, একারনে যে, এটি কোন ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান এর নেতৃত্বে হচ্ছে না।
    চলমান ঘটনাবলী সম্পর্কে সচেতনতা বা ফিকহুল ওয়াকির গুরুত্ব হালকা করে ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। বলে এগুলো শুধুমাত্র শাসক ও আলিমদের জন্য, সর্বসাধারণের জন্য এগুলো জানার প্রয়োজন নেই। এই নির্বোধ ধারণার কারনেই অনেক সাধারণ মুসলিমকে তাদের ভূখন্ডের শাসককে মুসলিম শাসক বলে মনে করে। কারন এই শাসকদের কুফর সম্পর্কে তারা বেখবর থাকে। যার ফলে এই সাধারন জনগণের অনেকে এই মুরতাদ শাসকদের একনিষ্ঠ গোলাম ও কর্মচারী হয়ে তাদের রাহে নিজেদের উৎসর্গ করে দেয়
    তারা যাদেরকে বিদ’আতি আখ্যায়িত করেছে এমন সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ব্যাপারে মানুষের অবস্থান পরীক্ষা করা। যদি কোন ব্যক্তি তাদের এ ধরনের তাবদী’ এর সাথে একমত পোষণ করে তবে সে তাদের বন্ধু হয়ে যায়, আর যদি একমত পোষণ না করে তবে সে ব্যক্তি তাদের এক শত্রু হিসাবে চিত্রিত হয়, এবং তার উপর আক্রমন শুরু হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদ’আতি আখ্যায়িত করে উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারনার উপর ভিত্তি করে। যেমন – শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. বলেছেন জিহাদ ফরযে আইন। মাদখালিদের মতে এটা বিদ’আত। সুতরাং তিনি (শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহ.) বিদ’আতী। মসজিদে কোন লোক বক্তব্য দিচ্ছে, তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে “আব্দুল্লাহ আযযাম সম্পর্কে তোমার কী ধারণা?” যদি সে বলে, উনি একজন ভালো মানুষ – তাহলে তারা এই ব্যক্তিকে এখন বিদআতি বলা শুরু করবে অথবা তাকে সন্দেহভাজনদের তালিকাভুক্ত করে রাখবে।
    সরকার ও রাজনীতির প্রশ্নে তারা অন্ধভাবে সরকারের নিয়োজিত আলিমদের অনুসরণ করে। কাজেই যদি সরকারের কর্মচারী কোন আলিম ফিলিস্তীনে ইয়াহুদিদের সাথে শান্তির কথা বলে, তাহলে মাদখালিরাও তোতাপাখির মত সেটা আউড়িয়ে যায়। যেমন – শাইখ ইবনে বাজ অথবা শাইখ ইবনে উসাইমিন মাদখালি নন, যদিও এটা হলেও হতে পারে যে মাদখালিদের কিছু মূলনীতিগুলোর কিছু শাখা-প্রশাখা তাদের মধ্যে থেকে থাকতে পারে। মাদখালিরা অন্ধভাবে রাজনীতি ও সরকারের ব্যাপারে এই শাইখদের মতামত যেহেতু তারা সরকার নিযুক্ত আলিম ছিলেন।
    অল্প কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে এরা আলিম ও সঠিক “মানহাজের উপর” থাকা বলে মনে করে। এই অল্প কয়েকজন ছাড়া আর কাউকে এই মানহাজের ব্যাপারে প্রশ্ন করা যাবে না। এই মানহাজ এর কবিরাজদের মধ্যে আছে রাবী’ আল-মাদখালি, উবাইদ আল জাবিরী প্রমুখ। ‘জারহ’ এবং তাবদী’ এর ব্যপারে মাদখালিরা অন্ধভাবে এদের অনুসরণ করে থাকে।
    মাদখালিদের স্বাভাবিক প্রবণতা হল আলে-সৌদ শাসকগোষ্ঠীকে যেকোন মূল্যে সমর্থন করা। এটাকে তারা পবিত্র দায়িত্ব মনে করে। তবে অধিকাংশ তাগুত শাসকগোষ্ঠীর ব্যাপারে তাদের অবস্থান হল আনুগত্য ও সক্রিয় সমর্থনের। তবে তাদের কেউ কেউ সিরিয়া, লিবিয়া (গাদ্দাফি) এর শাসকগোষ্ঠীর উপর তাকফির করে। কিন্তু সর্বদা, সর্বাবস্থায় জানপ্রান দিয়ে সৌদি শাসকগোষ্ঠীর প্রশংসা, সমর্থন ও বৈধতা দেয়ার ব্যাপারে তাদের নিজেদের মধ্যে বলা যায় ইজমা আছে।
    যেসব কাজ আদৌ বিদআত না, বরং দ্বীন ইসলামের সর্বোত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত, সেগুলো নিয়েও তারা খুব দ্রুত ও অবলীলায় মানুষকে বিদাআতী বলে ঘোষনা করে। যেমন জিহাদ। আর যদি কোন ব্যক্তি এমন কিছুতে পতিত হয় যা আসলেই বিদআত, তাহলে তারা পুরোপুরিভাবে ঐ ব্যক্তির প্রশংসা করা এবং তার লিখিত রচনাবলী পড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যেমন উস্তাদ সাইদ কুতুব রাহিমাহুল্লাহ কিছু বিষয়ে বিদআতে পতিত হয়েছিলেন। কিন্তু এ একই কথা অতীত ও বর্তমানের অনেক আলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের কথা আহলুস সুন্নাহও উদ্ধৃতি হিসাবে ব্যবহার করে আবার মাদখালিরাও করে। যেমন – ইবনে হাযম, ইমাম নববী, ইবনে হাজর প্রমুখ। অথচ সাইদ কুতুব বা তাঁর মতো অন্যান্যদের বেলায় তারা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের বই পড়াকে নিষিদ্ধ বলে থাকে।
    যেহেতু মুরতাদ শাসকদের অনেককেই মাদখালিরা শরয়ীভাবে বৈধ মুসলিম শাসক আর এই শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের খারেজি মনে করে। তাই এসব শাসকদের সাথে মৈত্রী ও বন্ধুত্বকে তারা বৈধতা দেয় এবং একজন মুসলিমের বিরুদ্ধে মুরতাদ শাসকগোষ্ঠীকে সহায়তা করা এরা জায়েজ এমনকি উত্তম কাজ মনে করে। আর এটি হল মাদখালিদের সবচেয়ে বিপদজনক বৈশিষ্ট্য। কারন এর মাধ্যমে তারা মুসলিম বিরুদ্ধে মুরতাদদের সহায়তা করে, গুপ্তচরবৃত্তি করে এবং মুসলিমদের মুরতাদ শাসকদের বাহিনীগুলোর হাতে ধরিয়ে দেয়। আর কার্যত এটি মুদ্বাহারা অর্থাৎ মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সহায়তা করা।
    মাদখালিরা শেষ পর্যন্ত এমন সব অবস্থান গ্রহন করে যা ইসলামের শত্রুদের উপকারে আসে আর উম্মাহর জন্য ক্ষতিকর হয়, যা খারেজিদের কার্যকলাপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারন খারেজিরা আহলে ইসলামকে হত্যা করে আর মুশরিকদের ছেড়ে দেয়। সংগৃহীত

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 1:48 pm on February 22, 2020 Permalink | Reply  

    ফেসবুক মুজাহীদ 

    ফেসবুক-অনলাইলে জিহাদবিষয়ক লেখালেখির কারণে যারা ‘ফেবু মুজাহিদ’, ‘কীবোর্ড মুজাহিদ’ ‘কম্বল মুজাহিদ’ ইত্যাদি বলে বলে তিরস্কার করেন, পারবেন কি আপনারা ইমাম বুখারি রহ., ইমাম মুসলিম রহ., ইমাম আবুহানিফা রহ.সহ সকল ইমামকে ‘কিতাবি মুজাহিদ’, কাগুজে মুজাহিদ’ বলে বলে তিরস্কার করতে।
    যেহেতু উনারা কিতাবে বিস্তারিত জিহাদবিষয়ক লেখালেখি করেগেছেন।

    থামুন, এসব ব্যঙ্গ করে ইমান আর ভাঙবেন না। কবরে ইমান দরকার পড়বে বড্ড। কবর বড় ভয়ংকর। সেখানে ইমান ছাড়া কোন আকাবির খুঁজে পাবেন না।

    -মুফতি আবু তাসনিম

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 3:11 pm on February 20, 2020 Permalink | Reply  

    বিবাহের ফজিলত 

    যারা বিবাহ না করার প্রতি অনুৎসাহিত করছেন। তারা আল্লাহকে ভয় করুন।

    বিবাহের ফযীলত।

    মহান রাব্বুল ’আলামীন সৃষ্টি জগতের সকল কিছুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে তিনি মানবজাতিকে তৈরী করেছেন। তাদেরকে নারী ও পুরুষ এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। সৃষ্টিগত ভাবেই এক শ্রেণী আরেক শ্রেণীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এই বিপরীতমুখী দুই শ্রেণীর পারস্পরিক সমন্বয় সাধন প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি শরী‘আতে বিবাহ নামক বন্ধন ব্যবস্থার আদেশ দিয়েছেন।

    বিবাহ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যে, এতদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “বান্দা যখন বিবাহ করল তখন তার দ্বীনদারী অর্ধেক পূর্ণ হয়ে গেল। অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করতে থাকে।” (মিশকাত শরীফ -২৬৭)

    মানুষের অধিকাংশ গুনাহ দুটি কারণে সংঘটিত হয়। একটি হয় তার লজ্জা স্থানের চাহিদা পূরণের কারণে আর অন্যটি হয় পেটের চাহিদা পূরণের কারণে। বিবাহের কারণে মানুষ প্রথমটি থেকে হেফাজতের রাস্তা পেয়ে যায়। সুতরাং তাকে কেবল রিযিকের ব্যাপারে চিন্তান্বিত থাকতে হয়। যাতে করে সে হারাম থেকে বেঁচে থাকতে পারে। একজন লোক খুব বড় আবেদ, তাহাজ্জুদ-চাশত-আওয়াবীন ইত্যাদি নফল নামায খুব পড়ে; কিন্তু সংসারের সাথে তার কোন সংশ্রব নেই। আরেকজন লোক ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতে মুআক্কাদা আদায় করে এবং বিবি বাচ্চার হক আদায়ে তৎপর থাকে ফলে তার বেশী বেশী নফল পড়ার কোন সময় হয় না। এতদসত্বেও শরীআত কিন্তু দ্বিতীয় ব্যক্তিকেই ইবাদাতগুজার হিসেবে মর্যাদা প্রদান করেছে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত মুতাবিক বিবাহ-শাদী করে পরিবারের দায়দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে হালাল রিযিকের ফিকির করছে, সে ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল যে চব্বিশ ঘণ্টা মসজিদে পড়ে থাকে বা বনে জঙ্গলে সন্ন্যাসীর মত জীবন যাপন করে আর সব রকমের সাংসারিক ঝামেলা থেকে মুক্ত থেকে তাসবীহ তাহলীলে মশগুল থাকে।

    বিবাহের অন্যতম আরো একটি ফায়দা হচ্ছে এই যে, এর দ্বারা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ পালন করা হয়। কেননা, তিনি ইরশাদ করেছেনঃ “বিবাহ করা আমার সুন্নাত।” আরেক হাদীসে এসেছেঃ“ তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে, তারা বিবাহ কর।কারণ এর দ্বারা দৃষ্টি ও লজ্জা স্থানের হেফাজত হয়।” (মিশকাত শরীফ- ২৬৭ পৃঃ)

    এছাড়াও বিবাহের দ্বারা মানুষ নিজেকে অনেক গুনাহের কাজ থেকে বাঁচাতে পারে। নেক আওলাদ হাসিল করতে পারে। আর নেক আওলাদ এমন এক সম্পদ যা মৃত্যুর পরে কঠিন অবস্থার উত্তরণে পরম সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়। কারো যদি নেক সন্তান থাকে তাহলে তারা যত নেক আমল করবে, সেগুলো পিতা-মাতার আমলে যোগ দেয়া হবে। বিবাহ-শাদী যেহেতু শরীআতের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি ইবাদত, সেহেতু এর মধ্যে কোনভাবে গুনাহ এবং আল্লাহ তা‘আলার নাফরমানীর কোন সংমিশ্রণ না হয় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাছাড়া এতে বেপর্দা, নাচ-গান, অপব্যয়-অপচয়, ছবি তোলা, নাজায়িয দাবী-দাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে দুরে থাকতে হবে। নতুবা মুবারক বিবাহের সমস্ত বরকতই নষ্ট হয়ে যাবে এবং স্বামী-স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি সূচনাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে। (মিশকাত শরীফ- ২/২৬৮)

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 12:53 pm on February 19, 2020 Permalink | Reply  

    বিবাহ সম্পর্কিত কিছু হাদীস 

    বিবাহ সম্পর্কিত কিছু হাদীস

    হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ পাক আবশ্যক মনে করেন-

    (১) ঐ মুকাতাব বা দাস যে নিজের মুক্তিপণ আদায় করতে চায়।

    (২) ঐ বিবাহকারী যে আপন চরিত্র রক্ষা করতে চায় এবং

    (৩) ঐ মুজাহিদ যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত-২৬৭)

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে তার আভিজাত্যের কারণে বিবাহ করবে আল্লাহ তা’আলা তার অপমান ও অপদস্থতা অধিক হারে বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদের কারণে তাকে বিবাহ করবে, আল্লাহ পাক তার দারিদ্রতাকে (দিনে দিনে) বৃদ্ধি করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি তাকে বিবাহ করবে তার বংশ কৌলীন্য দেখে, আল্লাহ পাক তার তুচ্ছতা ও হেয়তা বাড়িয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে শুধুমাত্র এই জন্য বিবাহ করে যে, সে তার চক্ষুকে অবনত রাখবে এবং লজ্জা স্থানকে হেফাজত করবে অথবা (আত্মীয়দের মধ্যে হলে) আত্মীয়তা রক্ষা করবে, তাহলে আল্লাহ সেই নারী-পুরুষ উভয়ের জীবনেই বরকত দান করবেন।(তাবারানী)

    হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ নারীকে চার কারণে বিবাহ করা হয়।

    (১) তার ধন-সম্পদের কারণে
    (২) তার বংশ মর্যাদার কারণে
    (৩) তার সৌন্দর্যের কারণে এবং
    (৪) তার দ্বীনদারীর কারণে। সুতরাং তুমি দ্বীনদার বিবি লাভ করে কামিয়াব হও। তোমাদের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক অর্থাৎ তুমি ধ্বংস হও (যদি দ্বীনদার ব্যতীত অন্য নারী চাও)। (বুখারী-মুসলিম, মিশকাত-২৬৭)

    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ, আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হল নেককার বিবি। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত- ২৬৭)

    হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের নিকট এমন কোন লোক বিবাহের প্রস্তাব দেয় যার দ্বীনদারী ও আখলাক তোমরা পছন্দ কর, তখন বিবাহ দিয়ে দাও। (মাল সম্পদের প্রতি লক্ষ্য কর না) তা যদি না কর তাহলে দেশে ব্যপকহারে ফেতনা-ফাসাদ দেখা দেবে। (তিরমিযী, মিশকাত শরীফ- ২৬৭)

    হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে, নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ সর্বাপেক্ষা বরকতর্পূণ বিবাহ হলো, যা সর্বাপেক্ষা কম খরচে সম্পাদিত হয়। (বাইহাকী, মিশকাত শরীফ- ২৬৮)

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 11:27 pm on February 18, 2020 Permalink | Reply  

    ওরা কাফের 

    যদি কোন ব্যক্তি এমন কথা কিংবা কাজে লিপ্ত হয় যার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, অথবা এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা রয়েছে যে এমন কাজ শুধুমাত্র কোন কাফেরদের দ্বারাই করা সম্ভব। অথবা অন্য কোন অকাট্য দলিল এ ব্যাপারে কায়েম থাকে যে, এ কথা বা কাজ কোন কাফিরই করতে পারে।
    তা হলে ঐ ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে।

    দেখুনঃ- শাইখ আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহিঃ লিখিত কিতাব- ওরা কাফেরদের কেন? পৃষ্ঠা ১৯৮

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 2:26 pm on February 18, 2020 Permalink | Reply  

    যার গুনাহ বেশী তারজন্য শ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক হচ্ছে জিহাদ 

    শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যার গুনাহ বেশী হয়, তার শ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক হচ্ছে আল জিহাদ।
    মাজমুউল ফতোয়া, ৮২১/২৮

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 1:00 pm on January 22, 2020 Permalink | Reply  

    জিহাদ ফরজে আঈন 

    মুফতি সালমান মানসূরপুরী হাফিজাহুল্লাহর সাথে জিহাদ ফরযে আইন হওয়ার ব্যাপারে আমার কথোপকথন।

    .
    দারুল উলুম দেওবন্দে থাকাকালীন কয়েকজন সহপাঠী আকিদা ও জিহাদ বিষয়ে মুজাকারা করতেন। তাদের আলোচনা শুনে এ সম্পর্কে গবেষণা করার আগ্রহ জন্মে। এক পর্যায়ে এসে আমি নিশ্চিত হয়ে যাই যে, জিহাদ আমাদের উপর ফরজে আইন। বিষয়টি আমাদের কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়ের সামনে উপস্থাপন করলে কেউ কেউ মেনে নেন। কিন্তু এক ভাই বলেন, দলিল তো সব ঠিক আছে। তবু আমরা যেহেতু এখনো ইফতার অভিজ্ঞতা অর্জন করিনি সেহেতু জানার হয়তো অনেক বাকি আছে। তাই ইফতা পড়ার আগে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতেও অপারগ।
    .
    দাওরা শেষ করার পর ভাইটি ভারতের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শাহী মুরাদাবাদে ইফতার জন্য ভর্তি হন। দীর্ঘদিন পর আমি এক সফরে হায়দ্রাবাদ থেকে ফেরার পথে শাহী মুরাদাবাদ মাদ্রাসায় যাই। ফলে সেই ভাইয়ের সাথে দেখা হয়। তার আন্তরিকতাপূর্ণ মেহমানদারী ভোলার নয়। কথার ফাঁকে আমি তার কাছে জানতে চাই যে, তিনি জিহাদ ফরজ হওয়ার বিষয়টি তাহকীক করেছেন কিনা? তিনি বললেন, ভাই তালাক ইত্যাদির মাসালার তামরীন করতে করতে ওই মাসআলাটি উপস্থাপনের সুযোগ এখনো পাইনি। মুফতি সাহেবের কাছে এ বিষয়ে মুজাকারা করব করব করেও করা হয়নি। আমি বললাম, ঠিক আছে তাহলে আজই আমি আপনাদের সবার উপস্থিতিতে মুফতি সালমান মানসুরপুরী সাহেবের সাথে বিষয়টি মুজাকারা করব ইনশাআল্লাহ।
    খানা শেষ করে তারা সকলেই দারুল ইফতায় চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর আমি নিশ্চিত হলাম যে, মুফটি সালমান মন্সুরপুরি সাহেব এই মুহূর্তে সেখানে আছেন। ফলে সালাম দিয়ে প্রবেশ করলাম। আমার আওয়াজ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচু হয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো।
    .
    কুশলাদি বিনিময়ের পর প্রথমে কালেকশন সংক্রান্ত একটি মাসালা হযরতের সাথে আলোচনা করলাম, যা হায়দ্রাবাদের একজন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আমির খান সাহেব আমাকে উলামায়ে দেওবন্দের সাথে মুজাকারা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
    .
    এরপর আমি হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলাম: হযরত জিহাদ ফরযে আইন হওয়ার ইল্লত (কারণ) কী?
    তিনি বললেন: এলায়ে কালিমাতুল্লাহ (আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করা)
    তাহলে ফরজে কেফায়া হওয়ার ইল্লত কী?
    এবারও তিনি বললেন: এলায়ে কালিমাতুল্লাহ
    .
    আমি বললাম হয়তো আপনি কি একথা বোঝাতে চাচ্ছেন যে, যখন এলায়ে কালিমাতুল্লাহর জন্য সবাইকে প্রয়োজন হবে তখন জিহাদ ফরজে আইন হবে? আর যখন কিছু লোক যথেষ্ট হয়ে যাবে তখন ফরজে কেফায়া হবে?

    তিনি বললেন: জি হ্যাঁ

    আমি বললাম: হযরত বর্তমানে ইন্ডিয়াতে কি এলায়ে কালিমাতুল্লাহ বাস্তবায়িত হয়ে গেছে?

    তিনি বললেন: না

    আমি বললাম: তাহলে আমরা জিহাদ করছি না কেন?

    তিনি বললেন: দেখুন, শুধু ইল্লত পাওয়া গেলেই হুকুম সাব্যস্ত হয়না। বরং শর্ত পাওয়া যাওয়া লাগে।

    আমি বললাম: সেই শর্ত কী হযরত?

    তিনি বললেন: মুসলমানদের ইমাম থাকা?

    আমি বললাম: হযরত ইমাম দ্বারা আপনি কী বোঝাতে চাচ্ছেন? পুরো বিশ্বের মুসলমানদের একজন ইমামের হাতে আগে বাইয়াত দিতে হবে? নাকি মসজিদের ইমাম সাহেবকে নিয়ে যুদ্ধে বের হয়ে যাব? নাকি যারা জিহাদ করবে তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে একজন ইমামের হাতে বাইয়াত দিবে?

    তিনি একটু নড়েচড়ে বসে বললেন: আসলে বর্তমান পেক্ষাপটে পুরো বিশ্বে একজন আমির হওয়া তো অসম্ভব। বরং এমন একজন ইমাম হতে হবে যার আয়ত্তে একটি ভূখণ্ড থাকবে। তিনি সেখান থেকে জিহাদকে আগে বাড়াবেন?

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হযরত মুসলমানদের ভূখণ্ড থাকার পর জিহাদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সেটাতো আক্রমণাত্মক জিহাদের ক্ষেত্রে যা ফরজে কেফায়া। আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, ভূখন্ড অর্জন করার জন্য যে জিহাদ প্রয়োজন সেই জিহাদের জন্য কী কী শর্ত রয়েছে?

    তিনি বললেন: বললাম তো যে এমন একজন ইমাম হতে হবে যার হাতে কোন এলাকার কর্তৃত্ব থাকবে।

    আমি বললাম হযরত আপনি এমন শর্ত আরোপ করছেন হয়তো কোনদিনই জিহাদ ফরজ হবে না। কেননা, জিহাদের জন্য ইমাম শর্ত। ইমামের জন্য ভূখণ্ড শর্ত। সেই ভূখণ্ড অর্জনের জন্য জিহাদ করতে হবে। সেই জিহাদের জন্য ইমাম প্রয়োজন হবে। সেই ইমামের ইমামত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ভূখণ্ড প্রয়োজন হবে। ও হামচূঁনী মুসালসাল। ফলে, দাওর লাযিম আসবে। আর দাওর যেহেতু বাতিল সেহেতু আপনার দেওয়া শর্ত অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার মহান হুকুম জিহাদ বাতিল বলে গণ্য হবে নাউজুবিল্লাহ।

    তিনি আমতা আমতা করে বললেন: আসলে আয়ত্তাধীন ভূখণ্ড দ্বারা আমি এটা বোঝাইনি যে, জিহাদের আগেই ইমামের হাতে ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব থাকতে হবে। বরং বোঝাতে চেয়েছি ইমামের এতটুকু শক্তি থাকতে হবে যার মাধ্যমে তিনি একটি ভূখণ্ড দখল করে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাড়ার প্রবল ধারণা হয়।

    আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: বর্তমানে ইন্ডিয়ার মুসলিমদের কি সেই শক্তি নেই?

    তিনি বললেন: না

    আমি বললাম: তাহলে সেই শক্তি অর্জনের জন্য প্রত্যেকের সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করা কী?

    তিনি বললেন: ফরজ

    আমি বললাম: হযরত আপনার সাথে মুজাকারা করে আমি বুঝতে পারলাম যে, নামাজের মতই জিহাদ করা আমাদের উপর ফরযে আঈন। নামাজের ইল্লত যেমন “সময় হাওয়া” তেমনি কোথাও জিহাদ ফরজ হওয়ার ইল্লত সেখানে আল্লাহর কালিমা সমুন্নত না থাকা। অজু করা যেমন নামাজের জন্য শর্ত তেমনি ভাবে ইমাম বা আমির নির্ধারণ করাও জিহাদের জন্য শর্ত। অজু যেমন আমাদেরকে করতে হবে। জিব্রাইল এসে করিয়ে দেবে না ঠিক তেমনি ভাবে ইমাম ও আমাদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে। অটো কেউ ইমাম হয়ে যাবে না।” হযরত আপনার বক্তব্য থেকে আমি এমনটি বুঝতেছি। আমার বোঝা কি ঠিক আছে?

    তিনি বললেন: হ্যাঁ, ঠিক আছে। (এরপর একটু রেগে গিয়ে বললেন) তবে এখানে এসে এসব করবেন না। তাহলে যেসব মাদ্রাসা, খানকা, এই দারুল ইফতা যেখানে বসে আমরা কথা বলছি সব ওরা ধ্বংস করে দিবে। আর যারা জিহাদ করছে তারা কী করছে! নিজেরা নিজেদের দেশে গৃহযুদ্ধ করছে। জিহাদের বদনাম করছে।

    আমি বললাম: তারা যেহেতু বদনাম করছে তাহলে আপনারা কেন সুনামের সাথে জিহাদের কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন না? আমাদের সামনে তো প্রাকটিক্যালী কোন বিশুদ্ধ নমুনা থাকা দরকার।

    (একথা শুনে হযরতের রাগ পানি হয়ে গেল।)

    তিনি বললেন: এটাতো তো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের শাসকদের দায়িত্ব।

    আমি বললাম: তারা তো কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে মুরতাদ হয়ে গেছে।

    তিনি বললেন: তারা মুরতাদ হয়ে গেছে। এ জন্য কি তোমরা আত্মহত্যা করতে চাও?
    .

    আমি তার এহেন ঈমান বিধ্বংসী কথা শুনে থ হয়ে গেলাম। ভাবলাম এ বিষয়ে কথা বাড়ালে‌ উনি এর চেয়েও মারাত্মক কথা হয়ত বলে ফেলবেন যার ফলে ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে এই আলোচনা এখানে ক্ষেন্তি দিয়ে অন্য আরেকটি প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম। আলোচনা শেষে তিনি আমার জন্য অনেক দোয়া করলেন এবং শাহী মোরাদাবাদ মাদ্রাসার একটি অফিসিয়ালি একটি চিঠি দেওবন্দ মাদ্রাসার অফিসে দিতে অনুরোধ করলেন। আমি চিঠিটি হাতে নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে শুকরিয়া আদায় করতে লাগলাম যে, তিনি আমাকে বাংলাদেশের কাঠমোল্লাগুলির মত বেয়াদব বলেন নি। আলহামদুলিল্লাহ দারুল ইফতার সকল ছাত্রদের সামনেই তিনি আমার সাথে খোলাখুলি মোজাকারা করে আমাকে ধন্য করেছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর এলেমে বরকত দান করুন। তাকে নেক হায়াত দান করুন। দীনের প্রকৃত দায়ী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার তাওফীক দান করুন। (যদিও সে আশা ক্ষীণ। কিন্তু ইন্নাল্লাহা ‘আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।)

    দিনযায় দ্বীন_বেচে

    মুফতী আতাউর রহমান হাফিজাহুল্লাহ্

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 1:44 pm on January 18, 2020 Permalink | Reply  

    একাধিক বিয়ে করুন 

    ভাইয়া ও আপুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
    একাধিক বিয়েকে আপনারা যে খারাপ দৃষ্টিতে দেখেন, এবং একাধিক বিয়ে করলে মনে করেন তার চরিত্র খারাপ, ইত্যাদি,আপনাদের এই মনোভাব দূর করুন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে তওবা করুন,আল্লাহর চেয়ে বেশী বুঝতে গিয়ে, নিজের ঈমান হারিয়ে বেঈমান হয়ে মৃত্যু বরণ করবেন, চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবেন।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বানি।
    আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের ব্যাপারে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না,তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না,
    তবে একটি অথবা তোমাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে। এটা অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা যুলম করবে না।
    সূরা নিসা ৩,
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা শুরু করেছেন দুইটা তিনটা চারটা দিয়ে, আর আপনারা,
    তো সেগুলো করেন না বরং পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছেন, তবুও সামর্থ্য থাকার পরও একাধিক বিয়ে করছেন না, আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে শুনে রাখুন।আর যারা একাধিক বিয়ে করছে তাদের কে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, আপনার ঈমান চলে যাওয়ার জন্য “এই তুচ্ছতাচ্ছিল্যই যথেষ্ট হবে, কারণ সে কুরআনের নির্দেশ মেনে বিয়ে করছে।
    সুতরাং এই সমস্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।
    আর আপুদের বলবো, আপু আপনারা
    শতীনকে নিজের বোন মনে করে করে, বসবাস করুন, এইটা ইসলামের সৌন্দর্য, আপু আপনারা
    গরীব অসহায় মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, আপনাদের স্বামীদেরকে, উৎসাহিত করুন।
    দুনিয়ার জীবনে যদিও একটু কষ্ট হবে আপনাদের তবে পরকালে তার বিনিময় স্বরুপ চিরস্থায়ী জান্নাতে দাখিল হবেন ইনশাআল্লাহ।
    পরিশেষে ভাইয়াদের বলবো আপনারা একাধিক বিয়ে করেন, এবং একাধিক স্ত্রীর প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন।আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের কে দ্বীন সঠিক ভাবে বোঝার তৌফিক দান করুন।
    আমিন
    #Shisha Dhala Pracir

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 3:30 pm on January 17, 2020 Permalink | Reply  

    শায়খ ওমর আল মুকবিল হাফিজাহুল্লাহ্ গ্রেপ্তার 

    প্রিয় শায়েখ

    , আল্লাহ আপনাকে অন্ধকার কারাগারে ধৈর্য ধরার তাওফিক দান করুন, এবং মৃত্যু পর্যন্ত সত্যের উপর অবিচল রাখুন।

    আপনি আপনার রবের সাথে করা ওয়াদা পূর্ণ করেছেন আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি সত্যবাদী ছিলেন।
    .
    শায়েখ ওমর আল-মুকবিল হাফিজাহুল্লাহ।

    যাকে গত সেপ্টেম্বর 2019, কোন আইনী অপরাধ ছাড়াই সৌদি প্রশাসন গ্রাফতার করে নিয়ে যায় আর এখন পর্যন্ত বন্দি করেই রাখা হয়েছে।

    কে এই শায়খ মুকবিল ?

    শায়েখ ওমর আল-মুকবিল হাফিজাহুল্লাহ আজ থেকে প্রায় 49 বছর আগে অর্থাৎ 1392 হিজরীতে রমজান মাসে সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন।
    সে ছিল তুর্কি বংশদুত।
    এরপর 25 বছর আগে অর্থাৎ 1414 হিজরীতে জামিয়াতুল ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী উচ্চতর অর্জন করেন আর একেই বছর জামিয়াতুল কসিম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হন।
    এরপর 1421 হিজরীতে সুন্নাহর উপর উচ্চতর অর্জন করেন।
    .
    তিনি যেসব আলেমদের থেকে তাসকিয়া লাভ করেন :
    ১/ফজিলাতুশ শায়খ সালেহ আল উসাইমিন।
    ২/ফজিলাতুশ শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায।
    ৩/ শায়েখ ইয়াহিয়া ইবনু আব্দুল আজিজ আল ইয়াহিয়া।
    ৪/ ফজিলাতুশ শাইখ ডঃ ইব্রাহিম আব্দুল্লাহ আল-লা’হাম।
    .
    তার রচনা:
    তিনি প্রায় 30 এর উপরে কিতাব রচনা করেছেন।
    এছাড়া ইন্টারনেটে ছড়িয়ে আছে তার অডিও-ভিডিও শতশত বয়ান।
    .
    2017 সালের একটি ভিডিও কে কেন্দ্র করে যেখানে তিনি সৌদি আরবে অশ্লীল গান বাজনা আর বেহায়াপনার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন এই বক্তব্য দেওয়ার কারণে তাকে 2019 সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার করা হয় ।

    আল্লাহ তার কারাগার থেকে মুক্তি ত্বরান্বিত করুন ।
    .

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 7:46 am on December 22, 2019 Permalink | Reply  

    প্রচলিত তাবলীগ জামাত নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর। 

    বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম৷
    .
    আল্লাহর ইচ্ছায় আমি দীর্ঘদীন যাবত প্রচলিত তাবলীগ জামাতের মেহনতের সাথে জড়িত ছিলাম৷ সে সুবাদে এই জামাতের দ্বীনদরদী(!) ভাইদের মুখে কালিমার একটি উদ্দেশ্য(!)”শুনে আসছি৷ তা হলঃ “মাখলূক্ব কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া৷ আল্লাহ সব পারেন মাখলূক্ব ছাড়া৷” তারা আরও বলেন এই কথা যারাই ইয়াক্বীন ও ইখলাসের সাথে বলবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে! এছাড়া পবিত্র কালিমার সকল ফযিলত তারা উক্ত উদ্দেশ্যের সাথে জুড়ে দেন৷ এখন প্রশ্ন হলঃ এটি কি আসলেই কালিমার উদ্দেশ্য?
    .
    উক্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদেরকে আগে কালিমার সঠিক ব্যাখ্যা জানতে হবে৷ অতঃপর উক্ত কথাটির বিশ্লেষণ করতে হবে ইনশাআল্লহ্৷
    প্রথমেই আমরা কালিমায়ে ত্বয়্যিবার ব্যাখ্যা সংখিপ্তভাবে আলোচনা করে নেই৷
    .
    আল্লাহ সুবহানাহু ও তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যান রেখেছেন ‘ইলম, ইয়াক্বীন, কবূল, আনুগত্য, ইখলাস ও সততার সাথে ঐ কালিমার সাক্ষ্য দেয়ার মাঝে যে কালিমার দাওয়াত দিয়েছেন সকল নবী-রাসূল ‘আলাইহিমুস সালাম ও তাঁদের অনুসারীগন৷ সেই কালিমা হলঃ لا إله إلا الله(লা ইলাহা ইল্লাল্লহ্) অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই৷ বা আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই৷
    .
    আরবী لا (লা) শব্দের অর্থ “নেই”, إله(ইলাহ্) শব্দের অর্থ “যার দাসত্ব/গোলামী করা হয়”৷ আর إلا(ইল্লা) শব্দের অর্থ “ব্যতীত৷” আরবী অভিধানসমূহে إله(ইলাহ্) শব্দের অর্থে معبود(মাবূদ) কিংবা এর সমার্থক শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে৷ মা’বূদ শব্দটি عبادة (ইবাদাত) ক্রিয়ামূল থেকে কর্মবাচ্য বিশেষ্য৷ ইবাদাত ক্রিয়ামূলটি আবার মূলধাতু عبد (আবদ্) থেকে নির্গত৷ আবদ্ শব্দের অর্থ গোলাম৷ ইবাদাত অর্থ গোলামী করা৷ আর যার গোলামী করা হয় তাকে “মাবূদ” বলে৷
    .
    সুতরাং কালিমার ব্যাখ্যা হলঃ “আল্লাহ ছাড়া অন্য করো গোলামী করা যাবে না এবং আল্লাহর বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কারো কোন বিধান মানা যাবে না৷”
    .
    আল্লাহ্ তা’আলা বিশ্ববাসীর জন্য উপযোগী একমাত্র সংবিধান পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনে কালিমার ব্যাখ্যায় বলেনঃ (হে নবী) আপনি বলুন ‘হে আহলে-কিতাবগণ! আপনারা এমন একটি কালিমার দিকে আসুন-যা আমাদের মধ্যে ও আপনাদের মধ্যে সমান৷ তা হলঃ আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও গোলামী করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং আল্লাহ ছাড়া একে অপরকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না৷ তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বলে দিন, তোমরা ‘সাক্ষী থাক যে, আমরা (একমাত্র আল্লাহর সামনেই) আত্মসমর্পণকারী। (সূরা আলে ‘ইমরান, আয়াতঃ ৬৪)
    .
    শেষ নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার চুড়ান্ত বিধান পৌছে দিয়েছেন৷ এজন্য কালিমার দ্বিতীয় অংশ হলঃ محمد رسول الله (মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম আল্লাহর রাসূল তথা বার্তাবাহক৷)
    সুতরাং কালিমার উভয় অংশের সমন্বিত ব্যাখ্যা হলঃ “মুহম্মদ (সাঃ) এর দেখানো পদ্ধতিতে একমাত্র আল্লাহরই গোলামী করতে হবে৷ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো গোলামী করা যাবে না৷ মুহাম্মদ সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম কর্তৃক প্রচারকৃত আল্লাহর চুড়ান্ত বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক অন্য কারো বিধান মানা যাবে না৷”
    আল্লাহ ব্যতীত যাদের গোলামী করা হয় তাঁদেরকে বলা হয় তাগূত৷ যেমনঃ নফস, মানব শয়তান, জ্বিন শয়তান, মূর্তী, পূজিত কোন প্রাণী/বৃক্ষ/পাথর, জাতিসংঘ, পার্লামেন্ট, সাংসদ তথা আইনপ্রণেতা, আল্লাহর নাফরমানীতে উৎসাহ প্রদানকারী বা চাপ সৃষ্টিকারী নেতা বা অবিভাবক, ওলামায়ে ছু ইত্যাদি৷
    .
    সুতরাং কালিমার মূল উদ্দেশ্য হল “সব ধরনের তাগূত বর্জন করে একমাত্র আল্লাহরই গোলামী করতে হবে৷”
    আবার বলছি, কালিমার মূল উদ্দেশ্য হল “সব ধরনের তাগূত বর্জন করে একমাত্র আল্লাহরই গোলামী করতে হবে৷”
    .
    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা তাগুতকে অমান্য করবে এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন। যারা (তাগূত বর্জন করে) ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা (তাগূতকে মেনে নিয়ে) কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে। (সূরাঃ বাক্বারা, আয়াতঃ ২৫৬ – ২৫৭)
    .
    এজন্য প্রত্যেক নবীই মানুষকে তাগুত বর্জন করে আল্লাহর গোলামী করার দাওয়াত দিয়েছেন৷ ফলে তাগূতবাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের যুলুম নির্যাতন ভোগ করেছেন৷ আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ “আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর গোলামী কর এবং তাগুত বর্জন কর। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। (সূরা নাহলঃ ৩৬) আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার নিয়োগ করেছি-যেন তারা সেখানে চক্রান্ত করে। তাদের সে চক্রান্ত তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। (আনআমঃ ১২৩)
    .
    আসুন এবার আমরা প্রচলীত তাবলীগ জামাতের বহুল প্রচলিত কালিমার কথিত উদ্দেশ্যটি বিশ্লেষণ করি৷
    তারা কালিমার যে তথাকথিত উদ্দেশ্যটি প্রচার করে তার দুটি অংশ রয়েছে৷ যথাঃ
    ১, মাখলূক্ব কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া৷ ২, আল্লাহ সব করতে পারেন মাখলূক্ব ছাড়া৷
    .
    আমার জানা মতে, প্রথম অংশটির সম্ভবনামূলক চারটি ব্যাখ্যা হতে পারে৷
    .
    (ক) {মাখলূক্ব কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া৷ অর্থাৎ, যে যাই করে তা আল্লাহর হুকুমেই করে৷ এমনকি কাফের কুফরী করে আল্লাহর হুকুমে, মুশরিক শিরক করে আল্লহর হুকুমে, পার্লামেন্ট শরীয়ত বিরোধী আইন প্রনয়ন করে আল্লাহর হুকুমে, যুলুমকারী যুলুম করে আল্লাহর হুকুমে৷ সুতরাং সব কিছুর উপরই তিনি সন্তুষ্ট৷ কেননা, তিনি সন্তুষ্ট না হলে এত শক্তিশালী হওয়া সত্বেও কেন তাদেরকে বিরত রাখছেন না? (না’ঊযুবিল্লাহ)} এটি সুস্পষ্ট কুফর৷ কোন মুসলমান এই কথা মেনে নিলে সে মুরতাদ (বেঈমান) হয়ে যাবে৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ “এখন মুশরেকরা বলবেঃ “যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা (আল্লাহর পক্ষ থেকে বৈধ হিসেবে ঘোষিত) কোন বস্তুকে অবৈধ ঘোষণা করতাম৷ এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কি কোন জ্ঞান আছে? থাকলে তা আমাদের সামনে উপস্থাপন কর৷ আসলে তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।” (সূরাঃ আন’আম, আয়াতঃ ১৪৮) তিনি আরও বলেনঃ “কী! তাদের কী এমন শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের বিধি-বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেন নি? ফয়সালা সম্পর্কিত (পূর্ব) ঘোষণা না দেয়া হলে তাদের মধ্যে (তৎক্ষণাত) ফয়সালা করে দেয়া হত৷ নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরাঃ শূরা, আয়াতঃ ২১)
    .
    (খ) {মাখলূক্ব কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া৷ অর্থাৎ, মানুষ এবং জড় পদার্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই৷ জড় পদার্থ যেমন নিজ ইচ্ছায় কিছুই করতে পারে না৷ অনুরুপ মানুষেরও নিজ ইচ্ছায় কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই৷ (না’ঊযুবিল্লাহ্)} এটা ইসলামের একটি সুপ্রাচীন ভ্রান্ত দল ‘জবরিয়্যা’দের অভিমত৷ তবে তারাও এটিকে কালিমার উদ্দেশ্যের সাথে জুড়ে দেয় নি৷ যেমনটি জুড়ে দিয়েছে প্রচলিত তাবলীগ জামাতের তথাকথিত মুরব্বীরা৷ (জবরিয়্যাদের সম্পর্কে আরও জানতে দেখুনঃ ইসলামী আক্বীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ, পৃষ্ঠাঃ ২৮৫, লেখকঃ মাওলানা মুহম্মদ হেমায়েতুদ্দীন৷)
    .
    অথচ, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে একাধারে এগার বার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বস্তু এবং বিষয়ের শপথ করে বলেনঃ “অতঃপর তিনি তাকে (বান্দাকে) তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন৷ (ঐ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে) যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। আর (ঐ জ্ঞানের অপব্যবহার করে) যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়। (সূরাঃ শামস, আয়াতঃ৮-১০) তিনি আরও বলেনঃ “নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।” (সূরাঃ বালাদ, আয়াতঃ ৪) সুতরাং মুসলমানদের দায়িত্ব হল, আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহর নির্দেশিত পথে শ্রম বিনিয়োগ করা৷ শ্রম না দিয়ে ফলাফলের আশা করা, বিয়ে না করে সন্তানের আশা করার মতই বোকামী৷
    .
    (গ) {মাখলূক্ব কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া৷ অর্থাৎ, আল্লাহ তা’আলা মাখলূক্বকে ক্ষমতা দিয়েছেন৷ সেই ক্ষমতা মাখলূক নিজ ইচ্ছায় ভাল কিংবা মন্দ কাজে ব্যবহার করে৷ আল্লাহ তাকে ক্ষমতা না দিলে সে কিছুই করতে পারত না৷ যেমনঃ আল্লাহ মানুষকে দেখা ও শোনার শক্তি দিয়েছেন৷ মানুষ নিজ ইচ্ছায় আল্লাহ প্রদত্ত এসব শক্তিকে ভাল কিংবা মন্দ কাজে ব্যবহার করে৷ আবার তিনি চাইলে এই শক্তি যে কোন সময় ছিনিয়েও নিতে পারেন৷ যেমন তিনি বলেনঃ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল। (সূরা বাক্বারা, আয়াতঃ ২০)} “আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ” এর মতে এই আক্বীদাটি সঠিক৷ তবে এটি কালিমার উদ্দেশ্য নয়৷
    .
    (ঘ) {মাখলূক্ব কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া৷ অর্থাৎ, মাখলূক্ব যতই চেষ্টা তদবীর করুক না কেন আল্লাহ তা’আলা যতটুকু সুখ-শান্তি ও বিপদ-আপদ তার তাক্বদীরে লিখে রেখেছেন তা খন্ডানোর কেউই নেই৷} এটি ঈমানের ষষ্ঠ রোকন তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস৷ হযরত ইবনে আব্বাস রযিয়াল্লহু তা’আলা ‘আনহু বলেনঃ এক দিন আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে তরুণ! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি- তুমি আল্লাহ তা‘আলার (বিধি-নিষেধের) রক্ষা করবে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আল্লাহ তা‘আলাকে তুমি কাছে পাবে। তোমার কোন কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হলে আল্লাহ তা‘আলার নিকট চাও, আর সাহায্য প্রার্থনা করতে হলে আল্লাহ তা‘আলার নিকটেই কর। আর জেনে রাখো, যদি সকল উম্মাতও তোমার কোন উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে ততটুকু উপকারই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। অপরদিকে যদি সকল উম্মাত তোমার কোন ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতিই করতে সক্ষম হবে, যতটুকু আল্লাহ তা‘আলা তোমার তাক্বদিরে লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং লিখিত কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে। (সূত্রঃ তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং ২৫১৬) সাবধান! রাসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম তাক্বদীর সম্পর্কে কাউকে বিতর্কে লিপ্ত হতে দেখলে খুবই রাগাণ্বিত হতেন এবং কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেন৷ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহু মানুষ এ বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে গোমড়া হয়েছে না’ঊযুবিল্লাহ্৷
    .
    এবার আসি দ্বিতীয় অংশের ব্যাখ্যায়৷
    এই অংশের সম্ভাব্য ব্যাখ্যাসমূহ নিন্মরুপঃ
    .
    (ক){আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন মাখলূক্ব ছাড়া৷ সুতরাং দ্বীন কায়েমের জন্য আমাদের কিছুই করা লাগবে না৷ আমরা ব্যক্তিগত ইবাদাতের মাধ্যমে তাকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তিনি নিজেই সব কিছু করে দেবেন৷} এটি নিকৃষ্ট পর্যায়ের কুফর৷ কেননা, এই ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করা আল্লাহ তা’আলার অসংখ্য বিধান অস্বীকার করার নামান্তর৷ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশকে মান৷ আর কিছু প্রত্যাখ্যান কর৷ যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। আর কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। (বাক্বারাঃ ৮৫)
    .
    (খ) {আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন মাখলূক্ব ছাড়া৷ অর্থাৎ, তিনি কোন কিছু সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে উপায় উপকরনের মুখাপেক্ষী নন৷ তিনি কোন কিছুর ইচ্ছা করার সাথে সাথেই সেটি হয়ে যায়৷ সুতরাং তিনি মুমিনগনের সাথে কৃত ওয়াদা পালনে এবং কাফেরদের শাস্তিদানে সক্ষম৷} এটি আমাদের একটি সঠিক অকাট্য ও প্রসিদ্ধ আক্বিদা৷ তবে এটিও কালিমার উদ্দেশ্য নয়৷
    .
    যাই হোক, উপরোক্ত সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্য থেকে আমরা যদি সর্বোত্তম সম্ভবনাগুলোই গ্রহন করি তাহলে তা إن الله على كل شيء قدير (আল্লাহ তা’আলা যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।)- এই আয়াতাংশ কিংবা ঈমানের ষষ্ঠ রোকন القدر خيره وشره من الله تعالى(ভাল-মন্দ তাক্বদীর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত) এর উদ্দেশ্য হতে পারে৷ ইসলামের প্রথম রোকন কালিমার উদ্দেশ্য নয়৷
    .
    আবার বলছি, উপরোক্ত সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্য থেকে আমরা যদি সর্বোত্তম সম্ভবনাগুলোই গ্রহন করি তাহলে তা إن الله على كل شيء قدير (আল্লাহ তা’আলা যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।)- এই আয়াতাংশ কিংবা ঈমানের ষষ্ঠ রোকন القدر خيره وشره من الله تعالى(ভাল-মন্দ তাক্বদীর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত) এর উদ্দেশ্য হতে পারে৷ ইসলামের প্রথম রোকন কালিমার উদ্দেশ্য নয়৷
    .
    আমি আবারও বলছি, উপরোক্ত সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্য থেকে আমরা যদি সর্বোত্তম সম্ভবনাগুলোই গ্রহন করি তাহলে তা إن الله على كل شيء قدير (আল্লাহ তা’আলা যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।)- এই আয়াতাংশ কিংবা ঈমানের ষষ্ঠ রোকন القدر خيره وشره من الله تعالى(ভাল-মন্দ তাক্বদীর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত) এর উদ্দেশ্য হতে পারে৷ ইসলামের প্রথম রোকন কালিমার উদ্দেশ্য নয়৷
    .
    লক্ষ করুন, “মাখলুক কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া৷ আল্লাহ সব পারেন মাখলূক্ব ছাড়া৷”এর সর্বোত্তম ব্যাখ্যা অনুযায়ী সারমর্ম হল “আল্লাহ সর্বশক্তিমান”৷ এটি আল্লাহর নিরানব্বইটি গুনবাচক নামসমূহের মধ্যে একটি নাম, যা অস্বীকার করলে মানুষ কাফের হয়ে যায়৷ তবে আল্লাহর এই গুণটি স্বীকার করলেই তাকে মুসলিম বলা যাবে না৷ কেননা, নাস্তিক ছাড়া সবাই তথা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরাও বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ সর্ব শক্তিমান৷ এমনকি কুফরী ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোর পোষ্টার, ব্যানার ইত্যাদিতেও লেখা থাকে “আল্লাহ সর্বশক্তিমান”৷ অথচ, তাদের কেউই স্বীয় পোস্টারে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” লিখে না! কিন্তু কেন? কারণ, নামধারী মুসলিমরা কালিমার সঠিক উদ্দেশ্য না জানলেও তাগূতগোষ্ঠি ঠিকই জানে৷ (এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এই লিংকে সার্চ করতে পারেনঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2163447390539531&id=100006228738371)
    .
    তাগুত আবু জাহলের দলও তো রাষ্ট্রিয় চুক্তি পত্রের শুরুতে আল্লাহর নামই লিখত৷ এবং নিজেদেরকে জাতির পিতা ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের অনুসারী দাবী করত৷ কিন্তু সে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”কে স্বীকার করে নি৷ কেননা, সে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর উদ্দেশ্য ভালভাবেই জানত৷ সে বুঝত এই কালিমা স্বীকার করে নিলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না, জণগনের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যাক্তি স্বার্থ হাসীল করা যাবে না৷ মনগড়া আঈনে বিচার করে জণগনকে ধোঁকা দেয়া যাবে না৷ এক কথায় মনের অবৈধ চাহিদাগুলো কোন ভাবেই পুরা করা যাবে না৷
    .
    পবিত্র কালিমার এই নিকৃষ্ট অপব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করেই কিছু পথভ্রষ্ট লোক দৃঢ়তার সাথে আসবাব (উপায়-উপকরণ) গ্রহণ করাকেই “শিরক” বলে অপপ্রচার করে নাঊযুবিল্লাহ৷ অথচ, দৃঢ়ভাবে আসবাব এখতিয়ার করা আম্বিয়া ‘আলাইহিমুস সালামের সুন্নাহ তথা আদর্শ৷ তবে, জনসাধারণকে আসবাব থেকে দূরে থাকতে বললেও নিজেরা তলে তলে ঠিকই দুনিয়াবী স্বার্থ হাসীলের জন্য আসবাবকে মযবূতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকে৷
    .
    তারা কালিমার এই ব্যাখ্যা কোথায় পেয়েছেন? কিংবা কে এই ব্যাখ্যা সর্বপ্রথম আবিষ্কার করলেন? অনেক ‘আলেম-‘ওলামা এবং তাবলীগের অনেক মুরুব্বীর কাছে জিজ্ঞাসা করেও এর কোন সদুত্তর পাওয়া যায় নি৷ কিন্তু কেন?
    .
    যশোরে একটি কওমী মাদরাসায় শিক্ষকতা করা অবস্থায় এ বিষয়ে মুখ খুললে প্রচলিত তাবলীগী ভাইদের এক বিশাল জামাত মাদরাসায় গিয়ে মাখলূক মুহতামিমের স্বরনাপন্ন হয়েছিল আমার চাকরী নট করানোর জন্য৷ কিন্তু কুরআন সুন্নাহর দলীলের সামনে টিকতে না পেরে আমাকে মার্কাযের বড় বড় মুরুব্বীদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসার সুযোগ করে দিবেন- এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় নিলেও তার বাস্তবায়ন হয় নি৷
    .
    আমাদের মুন্সীগঞ্জ মার্কাযের এক পরামর্শে উপস্থিত অধিকাংশ ‘ওলামা-হযরত বিষয়টি মেনে নিলেও কোন এক অজানা কারণে বিষয়টি সংশোধন করা থেকে তারা বিরত থাকছেন৷ এখনো পর্যন্ত এই অপব্যাখ্যাই চালিয়ে যাচ্ছেন৷ বিক্রমপুরের এক প্রসিদ্ধ পীর বিষয়টি সংশোধনের জন্য আমাকে সর্বাত্মক সহযোগীতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু আমি তার উর্দ্ধতন পীর আল্লামা আহমদ শফীর একটি কুফরী বক্তব্যের প্রতিবাদ স্বরূপ সোস্যাল মিডিয়ায় একটি দালীলিক চিঠি প্রচার করায় সহযোগীতার পরিবর্তে আমার অন্ধবিরোধিতা শুরু করেছেন৷ (সেই ঐতিহাসিক চিঠিটির লিংকঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2135289683355302&id=100006228738371
    .
    আজ পর্যন্ত কোন ‘আলেম এ বিষয়ে দলীলসহ আমার বিরোধিতা করেন নি৷ জেলা পর্যায়ের একজন মুরুব্বী ‘আলেম কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ “মেহনত করতে থাকুন বুঝে এসে যাবে!” কিন্তু মেহনত যতই করছি ততই তাদের গোমড় ফাঁস হচ্ছে৷
    .
    মেহনতের বরকতে জানতে পারলাম যে কুরআন, সুন্ননাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ্-এর কিতাব সমূহ এমনকি পূর্ববর্তি কোন ভ্রান্ত দলের কোন কিতাবেও কালিমার এই ব্যাখ্যা নেই৷ কিন্তু কেন?
    .
    মেহনত করতে করতে মনে আরও প্রশ্ন উদয় হতে লাগল যে, রাসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম তো কালিমার আলোচনা বেশি বেশি করতে বলেছেন৷ অপরদিকে তাকদীর (ভাগ্য) নিয়ে কাউকে বিতর্কে জড়াতে দেখলে তিনি রাগাণ্বিত হতেন৷ অথচ, কালিমার ব্যাখ্যা তাক্বদীরের মাধ্যমে করে জন-সাধারণের মধ্যে সেই ব্যাধি কেন ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে?
    সকল মূলনীতির মূলনীতি সুস্পষ্ট কালিমার উদ্দেশ্য কেন অস্পষ্ট (ব্যাখ্যাসাপেক্ষ) বক্তব্য দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে?
    .
    আবূ জাহল কে যদি রাসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম বলতেনঃ মাননীয় আবূ জাহল! আপনি মাখলূক৷ আপনি যা করছেন তা আল্লাহর হুকুমেই করছেন! (না’ঊযুবিল্লাহ্) তাহলে তো তার খুশি হওয়ার কথা ছিল৷ তবু কেন সে রাসূল ‘আলাইহিস সালামের বিরোধিতা করত?
    যে কালিমা তাগূতের বিদ্বেষে পরিপূর্ণ তার প্রচারকারীরা আজ কেন তাগূতের উপর সন্তুষ্ট?
    .
    যে কালিমার মাধ্যমে নবী-রাসূল ‘আলাইহিমুস সালামগণ জণগনকে তাগূত বর্জনের দাওয়াত দিয়ে তাগূতবাহীনী কর্তৃক বর্বোরোচিত অকথ্য নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, সেই কালিমার প্রচারকদের উভয় গ্রুপের মুরুব্বীরাই আজ কেন ক্ষমতাসীন তাগূতের পদলেহন করে তাগূতগোষ্ঠির সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন? আর নিরীহ জনসাধারণকে অনর্থক সংঘর্ষে লিপ্ত করে তাদের জান, মাল, রক্ত ও ইযযযত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন? এবং মুসলিম উম্মাহ্কে অমুসলিমদের চোখে উপহাসের পাত্রে পরিণত করছেন?
    .
    রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তো এই কালিমার ভিত্তিতে কাফেরদের প্রতি ছিলেন কঠোর এবং স্বীয় মুমিন ভাইয়ের প্রতি ছিলেন সহানুভূতিশীল৷ কিন্তু প্রচলিত তাবলীগীরা কেন কাফেরদের প্রতি নরম আর মুমিনদের প্রতি কঠোর?
    .
    আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ “মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তাওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন। (সূরাঃ ফাতহ্, আয়াতঃ ২৯)
    .
    কালিমার মাধ্যমে আম্বিয়া ‘আলাইহিমুস সালাম শুধু তাগূতগোষ্টি ও তাদের গোলামদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নতার ঘোষণা দিয়েছেন৷ কিন্তু এখন তাগূত ও তাদের গোলামদের সাথে সম্পর্ক জুড়ে রেখে সাধারণ মাখলূক্বের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাওয়াত কেন দেয়া হচ্ছে? অথচ, আল্লাহর দেয়া আঈন অনুযায়ী মাখলূককে ব্যবহার করার সর্বোত্তম পদ্ধতি শিক্ষা দেয়ার জন্যই তো যুগে যুগে আম্বিয়া ‘আলাইহিমুস সালামের আগমন৷
    .
    এটা যদি কালিমার সঠিক উদ্দেশ্যই হয় তাহলে, বর্তমান যামানার আবূ জাহলরা কেন বিশ্বব্যাপি তা প্রচারের অবাধ সুযোগ করে দিচ্ছে? ইহুদী খ্রিস্টানরাও তো কালিমার এই কথিত উদ্দেশ্যের বিরোধিতা করছে না?! অথচ, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ(হে নবী) ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই। (সূরা বাকারাঃ১২০) তাহলে কি কালিমার এই ব্যাখ্যাটি তাদের কাছ থেকেই আমদানি করা? আল্লাহ্ তা’আলা ভাল জানেন৷
    .
    পরিশেষে, সকলের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান হল, “লা ইলাহা ইল্লাল্লহ” তথা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো গোলামী করা যাবে না৷- এই কথা স্বীকার করে নিন৷ “সৃষ্টি যার বিধানও চলবে তার” এই অকাট্য মূলনীতিটি মেন নিন৷ এই কালিমার অনুসারীদের ভালবাসুন৷ এই পবিত্র কালিমাকে যারা প্রত্যাখ্যান করে সেই নাপাক বেঈমানদেরকে আপনারাও ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করুন৷ তাহলে আল্লাহর রহমতে সফলতা অবশ্যই আপনাদের পদচুম্বন করবেই৷ বিশ্বের বুকে আপনারা বিজয়ী জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন৷ আর পরকালে উপভোগ করবেন চিরস্থায়ী সুখময় জীবন ইনশাআল্লাহ্৷ যেমন, এক সময়কার অতি দুর্বল মদীনাবাসী এই কালিমাকে স্বীকার করা, এই কালিমার সাক্ষ্যদানকারীদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করা এবং এর বিরোধীদের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করার ফলশ্রুতিতে আল্লাহর ইচ্ছায় তৎকালীন বিশ্বের উপর তারা বিজয় লাভ করেছিলেন৷ তারা পরিণত হয়েছিলেন সবচাইতে সন্মানিত ও শক্তিশালী জাতিতে৷ আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন৷ তাঁরাও আল্লাহ তা’আলার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন৷
    .
    পক্ষান্তরে, হতভাগা মক্কাবাসী এই কালিমার বিরোধিতা করে এবং এর সাক্ষ্যদানকারীদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে যদিও মুসলিমদের উপর অত্যাচারের স্টীম রোলার চালিয়ে তাদেরকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর ইচ্ছায় সেই মুসলিমদের হাতেই তারা চিরতরে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল৷ শুধু তাই নয়৷ যুগে যুগে যারাই এই কালিমার বিরোধিতা করেছে তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে৷ আর পরকালেও তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তুদ শাস্তি৷ না’ঊযুবিল্লাহ্!
    .
    তাই আসুন আমরা আমাদের জাতির পিতা ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম এবং তার অনুসারীগনের আদর্শের উপর অটল থাকি৷ আল্লাহ্ তা’আলা এ সম্পর্কে বলেনঃ “তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা স্বজাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের গোলামী কর, তাদের সাথে আমাদের কোনই সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা ও বিদ্বেষ অব্যাহত থাকবে৷” (সূরাঃ মুমতাহিনা, আয়াতঃ৪)
    .
    আল্লাহ তা’আলা সকল তাওহীদবাদী মুসলিম ভাইদেরকে মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর অটল থাকার তাওফীক্ব দিক্৷
    যতটুকু আল্লাহ্ সুবহানাহু ও তা’আলা বোঝার তাওফীক্ব দিয়েছেন ততটুকু আপনাদের কাছে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করলাম৷ যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে৷ আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রসূল সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওসাল্লাম তা থেকে মুক্ত৷ আল্লাহ তা’আলাই ভাল জানেন৷ তার জ্ঞানই পরিপূর্ণ৷ আমাদের দায়িত্ব হল, আল্লাহর দেয়া জ্ঞান সুস্পষ্টভাবে মানুষের কাছে পৌছে দেয়া৷ আমাদের সর্বশেষ দাবীঃ সকল প্রসংশা ও শুকরিয়া শুধুই আল্লাহ তা’আলার জন্য৷
    .
    লেখার তারিখঃ ২১/০৮/২০১৮ইং
    .
    বিঃদ্রঃ (১) লেখাটি আপনি নিজে পড়ুন৷ অারেক ভাইকে পড়ে শোনান৷ বেশি বেশি কপি, শেয়ার, প্রিন্ট ও ফটোকপি করে বিতরণের মাধ্যমে আপনিও সঠিক দ্বীন প্রচারে অংশ নিয়ে দো-জাহানের কামিয়াবী হাসীল করতে পারেন৷ জাযাকুমুল্লহ্!
    .
    (২) মানুষ মাত্রই ভুল৷ তাই আমাদের ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়৷ এজন্য মুসলিম ভাইগণের কাছে সবিনয় অনুরোধ এই যে, যে কোন ধরণের ভুল দৃষ্টিগোচর হলে আমাদের জানালে ভাল হয়৷ আশা করি, আল্লাহ তা’আলা আপনাদের জ্ঞানের ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবেন ইনশাআল্লহ!
    .
    Ataur Rahman Bikrompuri
    Founder & principal at Markazul Hunafa Al-Muslimeen

     
c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel
Create your website at WordPress.com
Get started