Recent Updates Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 7:56 am on June 18, 2019 Permalink | Reply  

    বিবাহের সুন্নাহ সমূহ 

    বিবাহের সুন্নাত সমূহ

    ১. মাসনূন বিবাহ সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি, গান-বাদ্য, ভিডিও-অডিও মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থ্যের অধিক মহরানার শর্ত থাকবে না। (তাবরানী আউসাত, হাদীস নং- ৩৬১২)

    ২. সৎ ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান করে বিবাহের পয়গাম পাঠানো। কোন বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব হলে, দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত, তা সুন্নাতের পরিপন্থী ও পরিত্যাজ্য। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪ : ২০০/ বুখারী হাদীস নং- ৫০৯০)

    ৩. শাওয়াল মাসে এবং জুমু‘আর দিনে মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা। উল্লেখ্য, সকল মাসের যে কোন দিন বিবাহ করা জায়েয আছে। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪২৩/ বাইহাকী, হাদীস নং- ১৪৬৯৯)

    ৪. বিবাহের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে বিবাহ করা এবং বিবাহের পরে আকদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকদের মাঝে খেজুর বণ্টন করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫১৪৭)

    ৫. সামর্থ্যানুযায়ী মহর ধার্য করা।(আবু দাউদ: হাদীস নং- ২১০৬)

    ৬. বাসর রাতে স্ত্রীর কপালের উপরের চুল হাতে নিয়ে এই দু‘আ পড়াঃ

    اَللّهُمَّ إنِّيْ أسْألُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ مَا جَبَلْتَ عَلَيْهِ . وأعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَ عَلَيْهِ.
    (আবু দাউদ, হাদীস নং- ২১৬০)

    ৭. স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করবে, তারপর যখনই সহবাস-এর ইচ্ছা হয়, তখন প্রথমে নিম্নোক্ত দু‘আ পড়ে নেবেঃ

    بِسْمِ اللّهِ اَللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطانَ مَا رَزَقْتَنَا.
    (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪৩৪)

    বি.দ্র. উপরোক্ত দু‘আ না পড়লে শয়তানের তাছীরে বাচ্চার উপর কু-প্রভাব পড়ে। অতঃপর সন্তান বড় হলে, তার মধ্যে ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পেতে থাকে এবং বাচ্চা নাফরমান ও অবাধ্য হয়। সুতরাং পিতা-মাতাকে খুবই সতর্ক থাকা জরুরী।

    ৮. বাসর রাতের পর দু’হাতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গরীব-মিসকিনদের তাওফীক অনুযায়ী ওলীমা খাওয়ানোর আয়োজন করা। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪২৭)

    বি.দ্র. (ক) কোন পক্ষ যেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৫ : ১৩)

    (খ) কনের ইযন-এর জন্য সাক্ষীর কোন প্রয়োজন নাই। সুতরাং ছেলের পক্ষের লোক ইযন শুনতে যাওয়া অনর্থক এবং বেপর্দা। সুতরাং তা নিষেধ। মেয়ের কোন মাহরাম বিবাহের উকিল হওয়ার অনুমতি নিবে। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪২১)

    (গ) শর্ত আরোপ করে বরযাত্রীর নামে বরের সাথে অধিক সংখ্যক লোকজন নিয়ে যাওয়া এবং কনের বাড়ীতে মেহমান হয়ে কনের পিতার উপর বোঝা সৃষ্টি করা আজকের সমাজের একটি জঘন্য কু-প্রথা, যা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং- ২০৭২২/ বুখারী হাদীস নং- ২৬৯৭)

    (ঘ) ওলীমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরী নয়। বরং সামর্থ্যানুযায়ী খরচ করাই সুন্নাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওলীমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত করা হয়, দীনদার ও গরীব-মিসকিনদের দাওয়াত করা হয় না, সে ওলীমাকে হাদীসে নিকৃষ্টতম ওলীমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের নিকৃষ্ট ওলীমার আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত।(আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩৭৫৪)

    (ঙ) ওলীমার মজলিসে হাদিয়া লেন-দেন ঠিক নয়। কেউ হাদিয়া দিতে চাইলে নিজের সুযোগ মত পাঠিয়ে দিবে, প্রচার করবে না। গোপনে দিবে, এটাই হাদিয়ার সুন্নাত।

    https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islami_jindegi

    Advertisements
     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 11:32 pm on June 12, 2019 Permalink | Reply  

    দিনে দিনে মুসলমানদের অবস্থা। 

    👉দিনে দিনে!

    চিন্তা করে হচ্ছি কাহিল
    পাচ্ছিনাতো উপায় ঠিক!
    মুসলমানরা হচ্ছে গাফেল
    ধরছেনাতো পথ সঠিক!

    স্কুল,কলেজ,ভার্সিটিতে
    হারিয়ে গেছে ধর্মজ্ঞান!
    মুসলমানরাই বিধর্মীদের
    শিক্ষানীতির বাড়াই মান!

    দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে
    ধর্ম শিখার পাঠশালা!
    নাস্তিকেরা হাসছে দেখে
    মুসলমানের ধ্বংসলীলা!

    👉-জামাল আহমাদী

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 9:41 am on June 4, 2019 Permalink | Reply  

    ঈদ খুশীর হবে সেদিন 

    ঈদ খুশির হবে সেদিন
    যেদিন বায়তুল মাকদীস
    মুক্ত করা হবে,

    ঈদ খুশির হবে সেদিন যেদিন মাজলুম উম্মাহ শান্তিতে বসবাস করবে এবং আনন্দের সহিত ঈদ উদযাপন করবে,

    ঈদ খুশির হবে সেইদিন যেদিন
    আল্লাহর দুনিয়ায় একমাত্র আল্লাহর হুকুমত কায়েম হবে।

    এর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত তাওহীদ বাদী
    মুসলিমরা কখনো খুশী থাকতে পারেনা, পারবেনা এবং সম্ভব ও না।

    আর আমরা কখনোইই
    খুশী থাকবোনা,,
    উম্মাহ কে মুক্ত না করা পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ।

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 11:59 pm on June 3, 2019 Permalink | Reply  

    নাস্তিক ধর জবাই কর 

    ওই দেখা যায় বাংলাদেশ।
    ওই আমাদের গ্রাম,
    ওইখানেতে বাস করে আনসার আল ইসলাম।

    ও ভাই তোমরা চাও কি,
    টাকা পয়সা পাও কি?

    টাকা পয়সা চাইনা,
    নাস্তিকদের পায়না,

    একটা যদি পায় অমনি ধরে
    চাপাতি দিয়ে কোপায়।

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 2:58 am on June 3, 2019 Permalink | Reply  

    আত্মঘাতী হামলা ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন? আত্মহত্যা নাকি আত্মোৎসর্গ? 

    আত্মঘাতী হামলা নিয়ে দারুল উলূম হাটহাজারীর ফতোয়া

    আত্মঘাতী হামলা: ইসলামী শরীয়াহ কী বলে?
    ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তি ও শৃঙ্খলা অটুট রাখার জন্যে কখনো কখনো জিহাদের প্রয়োজন হয়। এই জিহাদ হতে হবে শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মনীতির আলোকে। বলাবাহুল্য, জিহাদের পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। যুগের পরিবর্তনের সাথে জিহাদের কৌশল পরিবর্তন হতে থাকে। জিহাদের বহুল প্রচলিত একটি কৌশল হলো ‘আত্মোৎসর্গ হামলা’। এ কৌশলের হুবহু নজীর পূর্ববর্তী কিতাবে বিস্তারিত না থাকায় শর‘য়ী ব্যাখ্যার দিক থেকে কিছুটা জটিলতার রূপ নিয়েছে। নিম্নে সংক্ষেপে শরী‘আতের আলোকে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।
    ইসলাম একজন মানুষকে সম্মান করে। একজন মানুষের জীবনকে পূর্ণ মর্যাদা দেয়। বরং শরী‘আতের মৌলিক উদ্দেশ্যের মাঝে মানুষের জান সংরক্ষণের বিশেষ গুরুত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। তাই কোন ব্যক্তি নিজের জান বাঁচানোর জন্যে অন্যের সাথে যুদ্ধ করতে পারে। এই যুদ্ধ করে করে নিহত হলে ইসলাম তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়েছে। সর্বোপরি ইসলাম চায় না একজনের জান বিনষ্ট হয়ে যাক। তাই ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছে, যেন কোন ব্যক্তি নিজের জান নিজেই ধ্বংস না করে। আত্মহত্যা ও আত্মহত্যাকারীর ব্যাপারে অনেক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রাসূল ইরশাদ করেছেন- ﻣﻦ ﻗﺘﻞ ﻧﻔﺴﻪ ﺑﺸﻲﺀ ﻋﺬﺏ ﺑﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ . “যদি কেউ কোন জিনিস দ্বারা আত্মহত্যা করে, তাহলে কিয়ামতের দিন ঐ জিনিস দ্বারাই তাকে আযাব দেয়া হবে।” (সহীহ মুসলিম:১/৭২)
    শরী‘আতে আত্মহত্যার কোন স্থান নেই। পক্ষান্তরে জিহাদে নিজের জান ব্যবহার করার উৎসাহ ও হুকুম দেয়া হয়েছে এবং এ কথাও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের পরিবর্তে মুমিনের জান মাল ক্রয় করেছেন। ইরশাদ হয়েছে- “আল্লাহ তা‘আলা ক্রয় করে নিয়েছেন মুমিনদের থেকে তাঁদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাঁদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তাঁরা যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে; অতঃপর হত্যা করে ও নিহত হয়।” (সূরা তাওবা: ১১১) অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, মুমিনদের জান-মাল দ্বীনের স্বার্থে ব্যবহার হবে।
    জান-মাল ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে, যার চূড়ান্ত পর্যায় হলো জিহাদে অংশগ্রহণ । জিহাদে অংশগ্রহণ করে জান-মাল ব্যবহারের দু’টি রূপ হতে পারে। ১. এমনভাবে জিহাদে অংশ নেয়া যার পর কাফেরের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এক পর্যায়ে নিরাপদে ফিরে আসার সম্ভাবনা হলেও থাকে। যেমন নববী যুগ থেকে এখন পর্যন্ত সাধারণত যে পদ্ধতি চালু আছে তাতে এক পর্যায়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ ফিরে আসত কেউ আল্লাহর কাছে চলে যেত। এ পদ্ধতি জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। বরং অবস্থাভেদে কখনো ওয়াজিব বা ফরয হয়ে থাকে।
    ২. কাফেরের ক্ষতি ও ধ্বংস করার জন্য এমনভাবে নিজেকে পেশ করা যার পর পুনরায় প্রাণ নিয়ে ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই। যেমন বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি রূপ ‘আত্মোৎসর্গ’ হামলা।
    ★এ পদ্ধতিতে দু’টি দিক রয়েছে। এক. যেহেতু নিরাপদে ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই, যেমনটি প্রথম পদ্ধতির মাঝে ছিল সেহেতু এটা বাহ্যত এক পর্যায়ে আত্মহত্যার আওতায় পড়ে, যা সর্বাবস্থায় নিষেধ। দুই. ইসলাম জিহাদে নিজেকে পেশ করার ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট কোন সীমারেখা বলে দেয়া হয়নি। বরং আয়াত ও হাদীসের ব্যাপকতা এবং কিছু সাহাবীর আমল থেকে অনুমতি বুঝে আসে। তাই এ পদ্ধতিও কুরআন হাদীসের ব্যাপকতার মাঝে পড়ে, যার সারসংক্ষেপ নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
    ★কুরআনের আলোকে আত্মোৎসর্গ আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেছেন- “মানুষদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুিষ্ট লাভের উদ্দেশ্যে আত্ম-বিক্রয় করে থাকে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান।” সূরা বাকারা: ২০৭
    অর্থাৎ যারা জিহাদের ময়দানে জীবন বিলিয়ে নিজেকে বিক্রয় করে থাকে। (রুহুল মা’আনী: ২/৯৬, মাকতাবায়ে এমদাদিয়া, মুলতান, পাকিস্তান)
    আল্লামা কুরতুবী রাহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে লিখেছেন, কোন কোন মুফাস্সির বলেন, আয়াতটি ব্যাপক অর্থবোধক। আল্লাহর রাস্তার প্রত্যেক মুজাহিদ, শহীদ হওয়ার জন্য নিজেকে উৎসর্গকারী এবং খারাপ কাজে বাধাদানকারী সকলেই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।(তাফসীরে কুরতুবী: ৩/১৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত, লেবানন)
    ইবনে কাসীর রাহ. এ মতটিকে অধিকাংশ মুফাসসীরের মত বলেছেন।(তাফসীরে ইবনে কাসীর: ১/৩৬৯, দারু ইবনুল জাওযী, কায়রো)
    ইবনে কাসীর রাহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নকল করেন, একবার হিশাম ইবনে আমের রাযি. শত্রু বাহিনীর দুই কাতারের মাঝে হামলা করলে কিছু লোক এর বিরোধিতা করে। তখন হযরত ওমর রাযি., হযরত আবু হুরায়রা রাযি. সহ অন্যান্যরা আপত্তিকারী ব্যক্তিদের মত প্রত্যাখ্যান করে এই আয়াত তেলাওয়াত করেন- “মানুষদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুিষ্ট লাভের উদ্দেশ্যে আত্ম-বিক্রয় করে থাকে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান।”(তাফসীরে ইবনে কাসীর: ১/৩৬৯, দারু ইবনুল জাওযী, কায়রো)
    আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন- “সুতরাং আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর; তোমাকে শুধু তোমার নিজের সম্পর্কে দায়ী করা হবে।” (সূরা নিসা: ৮৪)

    তাবে‘য়ী আবু ইসহাক রাহ. বলেন, একবার আমি হযরত বারা ইবনে আযেব রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলাম, যদি কোন ব্যক্তি একাই মুশরিকদের উপর আক্রমণ করে, তবে সে কি ঐ ব্যক্তির বিধানে অর্ন্তভুক্ত হবে, যে নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়? উত্তরে তিনি বলেন, না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূল কে প্রেরণ করেছেন এবং বলেছেন- “সুতরাং আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর; তোমাকে শুধু তোমার নিজের জন্য দায়ী করা হবে।” (তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/২৩৮, দারু ইবনুল জাওযী, কায়রো)
    ★হাদীসের আলোকে আত্মোৎসর্গ
    উহুদের দিন অনেক সাহাবায়ে কেরাম একা শত্রুর মাঝে ঢুকে আক্রমণ করেন এবং শাহাদাত বরণ করেন, যেখানে নিশ্চিত মত্যুর আশঙ্কা ছিল। রাসূল তাঁদের প্রশংসাও করেছেন। আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত- ﺃﻓﺮﺩ ﻳﻮﻡ ﺃﺣﺪ ﻓﻰ ﺳـــﺒﻌﺔ ﻣﻦ ﺍﻷﻧﺼـــﺎﺭ ﻭﺭﺟﻠﻴﻦ ﻣﻦ ﻗﺮﻳﺶ ﻓﻠﻤﺎ ﺭﻫﻘﻮﻩ ﻗﺎﻝ : ﻣﻦ ﻳﺮﺩﻫ ﻢ ﻋﻨﺎ ﺃﻥ ﺭﺳـــﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻟﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺃﻭ ﻫﻮ ﺭﻓﻴﻘﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺘﻘﺪﻡ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺍﻷﻧﺼـﺎﺭ ﻓﻘﺎﺗﻞ ﺣﺘﻰ ﻗﺘﻞ ﺛﻢ ﺭﻫﻘﻮﻩ ﺃﻳﻀـﺎ ﻓﻠﻢ ﻳﺰﻝ ﻛﺬﻟﻚ ﺣﺘﻰ ﻗﺘﻞ ﺍﻟﺴﺒﻌﺔ . “উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ এর সাথে সাতজন আনসারী ও দুইজন কুরাইশী সাহাবী ছিলেন। এক সময় মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ এর কাছে চলে আসল, তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছ যে তাদের প্রতিহত করবে? তার জন্য জান্নাত রয়েছে, অথবা সে জান্নাতে আমার সাথী হবে। তখন এক আনসারী সাহাবী সামনে এগিয়ে লড়াই করলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন অতঃপর আবার তারা রাসূল এর কাছে চলে আসলে একে একে সাতজনই শহীদ হয়ে গেলেন।”(সহীহ মুসলিম: ২/১০৭)
    জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ﻳﻮﻡ ﺃﺣﺪ : ﺃﺭﺃﻳﺖ ﺇﻥ ﻗﺘﻠﺖ ﻓﺄﻳﻦ ﺃﻧﺎ؟ ﻗﺎﻝ : ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺄﻟﻘﻰ ﺗﻤﺮﺍﺕ ﻓﻲ ﻳﺪﻩ ﺛﻢ ﻗﺎﺗﻞ ﺣﺘﻰ ﻗﺎﻝ ﺭﺟﻞ ﻟﻠﻨﺒﻲ ﻗﺘﻞ . “উহুদের দিন এক সাহাবী রাসূল কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি যদি নিহত হই, তবে আমি কোথায় যাব? রাসূল বললেন, জান্নাতে। তখন তিনি তাঁর হাতের খেজুরগুলো নিক্ষেপ করে প্রচন্ড বেগে হামলা করলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন।” (সহীহ বুখারী: ২/৫৭৯)
    ﻭﺑﻠﻐﻨﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﺒﺮﺍﺀ ﻳﻮﻡ ﺣﺮﺏ ﻣﺴﻴﻠﻤﺔ ﺍﻟﻜﺬﺍﺏ ﺃﻣﺮ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﺃﻥ ﻳﺤﺘﻤﻠﻮﻩ ﻋﻠﻰ ﺗﺮﺱ، ﻋﻠﻰ ﺃﺳﻨﺔ ﺭﻣﺎﺣﻬﻢ، ﻭﻳﻠﻘﻮﻩ ৭৭৫. ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺪﻳﻘﺔ . ﻓﺎﻗﺘﺤﻢ ﺇﻟﻴﻬﻢ، ﻭﺷﺪ ﻋﻠﻴﻬﻢ، ﻭﻗﺎﺗﻞ ﺣﺘﻰ ﺍﻓﺘﺘﺢ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺤﺪﻳﻘﺔ হযরত বারা ইবনে মালেক রাযি. মুসায়লামা কাযযাবের সাথে যুদ্ধের দিন সাথীদেরকে বর্শার আগায় ঢাল রেখে তাঁকে তার উপর বসিয়ে বাগানের মধ্যে ছুঁড়ে দিতে বললেন। অতঃপর তিন তাদের মাঝে ঢুকে প্রচন্ড বেগে আক্রমণ করলেন এবং তাদের হত্যা করে বাগানের দরজা খুলে দিলেন।
    ( ﻋﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺳﻴﺮﻳﻦ ﺍﻟﺴﻨﻦ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻓﻲ )
    ★আত্মোৎসর্গ ও ফুকাহায়ে কেরাম
    আত্মোৎসর্গ হামলার একটি রূপ হলো বিপুল সংখ্যক কাফেরের মাঝে ঢুকে পড়া। এভাবে হামলা সম্পর্কে ইমাম মুহাম্মদ রাহ. বলেছেন, যদি কোনভাবে মুসলমানদের উপকার ও কাফেরের ক্ষতি হয় তাহলে এরকম হামলা করা যাবে। যেমন ইমাম আবু বকর জাসসাস রাহ. ইমাম মুহাম্মদ রাহ. এর মত এভাবে উল্লেখ করেন: – ﻓﺈﻥ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺍﻟﺸﻴﺒﺎﻧﻲ ﺫﻛﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻴﺮ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ﺃﻥ ﺭﺟﻼ ﻟﻮ ﺣﻤﻞ ﻋﻠﻰ ﺃﻟﻒ ﺭﺟﻞ ﻭ ﻫﻮ ﻭﺣﺪﻩ، ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺑﺬﻟﻚ ﺑﺄﺱ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻄﻤﻊ ﻓﻲ ﻧﺠﺎﺓ ﺃﻭ ﻧﻜﺎﻳﺔ، ﻓﺈﻥ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻄﻤﻊ ﻓﻲ ﻧﺠﺎﺓ ﻭ ﻻ ﻧﻜﺎﻳﺔ ﻓﺈﻧﻲ ﺃ ﻛﺮﻩ ﻟﻪ ﺫﻟﻚ، ﻷﻧﻪ ﻋﺮﺽ ﻧﻔﺴﻪ ﻟﻠﺘﻠﻒ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﻣﻨﻔﻌﺔ ﻟﻠﻤﺴﻠﻤﻴﻦ . ﻭ ﺇﻧﻤﺎ ﻳﻨﺒﻐﻲ ﻟﻠﺮﺟﻞ ﺃﻥ ﻳﻔﻌﻞ ﻫﺬﺍ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻄﻤﻊ ﻓﻲ ﻧﺠﺎﺓ ﺃﻭ ﻣﻨﻔﻌﺔ ﻟﻠﻤﺴﻠﻤﻴﻦ، ﻓﺈﻥ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻄ ﻤﻊ ﻓﻲ ﻧﺠﺎﺓ ﻭ ﻻ ﻧﻜﺎﻳﺔ ﻭ ﻟﻜﻨﻪ ﻯﺀ ِ ّ ﻳﺠﺮ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﺑﺬﻟﻚ ﺣﺘﻰ ﻳﻔﻌﻠﻮﺍ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻓﻌﻞ، ﻓﻴﻘﺘﻠﻮﻥ ﻭ ﻳﻨﻜﻮﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﺪﻭ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﺬﻟﻚ ﺇﻥ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ، ﻷﻧﻪ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﻃﻤﻊ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻜﺎﻳﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﺪﻭ ﻭ ﻻ ﻳﻄﻤﻊ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺠﺎﺓ ﻟﻢ ﺃﺭ ﺑﺄﺳﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﻤﻞ ﻋﻠﻴﻬﻢ … ﻭ ﺃﺭﺟﻮ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻓﻴﻪ ﻣﺄﺟﻮﺭﺍ . ﻭ ﺇﻧﻤﺎ ﻳﻜﺮﻩ ﻟﻪ ﺫﻟﻚ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻣﻨﻔﻌﺔ ﻓﻴﻪ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺟﻮﻩ ، ﻭ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻄﻤﻊ ﻓﻲ ﻧﺠﺎﺓ ﻭ ﻻ ﻧﻜﺎﻳﺔ ﻭ ﻟﻜﻨﻪ ﻣﻤﺎ ﻳﺮﻫﺐ ﺍﻟﻌﺪﻭ، ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﺬﻟﻚ ﻷﻥ ﻫﺬﺍ ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻟﻨﻜﺎﻳﺔ ﻭ ﻓﻴﻪ ﻣﻨﻔﻌﺔ ﻟﻠﻤﺴﻠﻤﻴﻦ .
    “মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ শায়বানী রাহ. সিয়ারে কাবীরে উল্লেখ করেন, একজন লোক যদি এক হাজার লোকের উপর হামলা করে এতে কোন অসুবিধা নেই যদি সে নিজের মুক্তির আশা রাখে কিংবা শত্রুদের আহত করার আশাবাদী হয়। আর যদি সে নিজের মুক্তি বা শত্রুদের ক্ষতি করার আশাবাদী না হয়, তাহলে আমি তার জন্য এ কাজটিকে অপছন্দ করি। কেননা এতে মুসলমানদের কোন ফায়দা ছাড়া নিজেকে ধ্বংসের জন্য পেশ করা হয়। একজন ব্যক্তির জন্য এ ধরনের হামলা তখনই সমীচীন হবে যখন সে তার হামলা দ্বারা নিজে নিরাপদে ফিরে আসা ও মুসলমানদের উপকার হওয়ার আশা রাখবে। যদি এমন আশা না থাকে, কিন্তু শত্রুদের ক্ষতি সাধনের জন্য তার মত হামলা করার প্রতি অন্যদেরকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে হয় তাহলে শর‘য়ী কোন সমস্যা নেই। কেননা যদি শত্রুদের ক্ষতি করার আশা থাকে, কিন্তু নিজেকে মুক্ত করার আশা না থাকে, তাহলেও আমি তাদের উপর হামলা করতে কোন অসুবিধা মনে করি না এবং আমি আশা করি এই হামলার কারণে সে প্রতিদান পাবে। আর যখন হামলার দ্বারা কোন ফায়দা না হয়, তখন আক্রমণ করা মাকরূহ। যদি নিজের মুক্তির বা তাদের ক্ষতির কোন আশা না থাকে কিন্তু এর দ্বারা শত্রুদের ভীতি প্রদর্শন করা যায় তাহলে এ হামলাতেও কোন অসুবিধা নেই। কেননা এটাইতো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি এবং এতে মুসলমানদের উপকারও নিহিত।” (আহকামুল কুরআন লিল জাস্সাস: ১/৩২৭, দারু ইহয়ায়িত্ তুরাছিল আরাবী, বৈরুত, লেবানন)
    ইমাম জাসসাস রাহ. ইমাম মুহাম্মদ রাহ. এর মত সমর্থন করে বলেন- “ইমাম মুহাম্মদ রাহ. যে সকল সূরত বর্ণনা করেছেন এগুলো সহীহ। এগুলো ব্যতীত ভিন্ন সূরত জায়েয নেই। আর উল্লিখিত বিবরণ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হবে ঐ ব্যক্তির কথাকে, যিনি আবু আইয়ূব রাযি. এর বরাতে বর্ণিত হাদীসে ﻭَ ﺍَﻧْﻔِﻘُﻮْﺍ ﻓِﯽْ ﺳَﺒِﯿْﻞِ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﻭَ ﻟَﺎ ﺗُﻠْﻘُﻮْﺍ ﺑِﺎَﯾْﺪِﯾْﻜُﻢْ ﺍِﻟَﯽ ﺍﻟﺘَّﻬْﻠُﻜَﺔِ ۛۖۚ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, শত্রুদের উপর হামলা করে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে । যেহেতু কোন উপকারশূন্য হলে তাদের মতে এতে কোন ফায়দা নেই। যখন বিষয়টি এমনই তখন দ্বীন ও মুসলমানদের কোন ফায়দা ছাড়া নিজের জীবনকে ধ্বংস করা উচিৎ নয়। আর যখন নিজেকে ধ্বংস করার মধ্যে দ্বীনের ফায়দা থাকে, তখন এটা হবে এমন এক মর্যাদাপূর্ণ কাজ, যার প্রশংসা স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা করেছেন। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন) তারা (যারা দ্বীনের ফায়দার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছে) তাদের প্রতিপালকের নিকট রিযিকপ্রাপ্ত হবে।(সূরা আল ইমরান: ১৬৯)
    আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘কিছু মানুষ এমন আছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছে।’(সূরা বাকারা: ২০৭)
    এ ধরনের আরো অনেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রশংসা করেছেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছে।”(আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস: ১/৩২৭-৩২৮, দারু ইহয়ায়িত্ তুরাছিল আরাবী, বৈরুত, লেবানন )
    আল্লামা যফর আহমদ উসমানী রাহ. ই‘লাউস সুনানে এ সম্পর্কে স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় করে বলেন- ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺴـــﺄﻟﺔ ﺣﻤﻞ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺪﺩ ﺍﻟﻜﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺪﻭ ﻓﺼـــﺮﺡ ﺍﻟﺠﻤﻬﻮﺭ ﺑﺄﻧﻪ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻟﻔﺮﻁ ﺷـــﺠﺎﻋﺘﻪ ﻭﻇﻨﻪ ﺃﻧﻪ ﻳﺮﻫﺐ ﺍﻟﻌﺪﻭ ﺑﺬﻟﻚ ﺃﻭ ﻳﺠﺮﺉ ﺍﻟﻤﺴــﻠﻤﻴﻦ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻧﺤﻮ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻘﺎﺻــﺪ ﺍﻟﺼــﺤﻴﺤﺔ ﻓﻬﻮ ﺣﺴــﻦ ﻭﻣﺘﻰ ﻛﺎﻥ ﻣﺠﺮﺩ ﺗﻬﻮﺭ ﻓﻤﻤﻨﻮﻉ ﻭﻻ ﺳﻴﻤﺎ ﺇﻥ ﺗﺮﺗﺐ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﻭﻫﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ .
    “বিশাল বাহিনীর উপর একা আক্রমণ করার মাসআলা সম্পর্কে জমহুর ফুকাহায়ে কেরাম রাহ. এর মত হলো, যদি তার বীরত্বের কারণে তার মাঝে প্রবল ধারণা হয় যে, সে দুশমনের মাঝে ভীতি সৃিষ্ট করতে পারবে, এ ধরনের সৎ উদ্দেশ্যে হলে, তা জায়েয আছে। আর যদি শুধু ধ্বংসমূলক হামলা হয় তাহলে জায়েয হবে না। বিশেষ করে যদি তার কারণে মুসলমানদের মাঝে দুর্বলতা চলে আসে।”(ই‘লাউস সুনান: ১২/২৮-২৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত, লেবানন)
    আল্লামা শামী রাহ. শরহুস সিয়ারের উদ্ধৃতিতে বলেন- ﺫﻛﺮ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻴﺮ ﺃﻧﻪ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺃﻥ ﻳﺤﻤﻞ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﺣﺪﻩ ﻭﺇﻥ
    ﻇﻦ ﺃﻧﻪ ﻳﻘﺘﻞ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﺼﻨﻊ ﺷﻴﺌﺎ ﺑ ﻘﺘﻞ ﺃﻭ ﻳﻮﻡ ﺃﺣﺪ ﻭﻣﺪﺣﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ، ﺑﺠﺮﺡ ﺃﻭ ﺑﻬﺰﻡ، ﻓﻘﺪ ﻓﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺄﻣﺎ ﺇﺫﺍ ﻋﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻻ ﻳﻨﻜﻲ ﻓﻴﻬﻢ ﻓﺈﻧﻪ ﻻ ﻳﺤﻞ ﻟﻪ ﺃﻥ ﻳﺤﻤﻞ ﻋﻠﻴﻬﻢ، ﻻﻧﻪ ﻻ ﻳﺤﺼﻞ ﺑﺤﻤﻠﺘﻪ ﺷ ﻲﺀ ﻣﻦ ﺇﻋﺰﺍﺯ ﺍﻟﺪﻳﻦ . “নিহত হওয়ার প্রবল ধারণা থাকা সত্ত্বেও একা এক ব্যক্তি শত্রুর উপর হামলা করতে পারবে, যদি সে দুশমনকে হত্যা, আহত অথবা পরাস্ত করার মাধ্যমে কোন ক্ষতি করতে পারে। কেননা অনেক সাহাবী রাযি. উহুদের দিন রাসূল এর সামনে এ ধরনের হামলা করেছেন এবং হুজুর তাদের প্রশংসা করেছেন। আর যদি এ ধারণা হয় যে, সে তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, তবে তার জন্য তাদের উপর হামলা করা জায়েয হবে না। কেননা তার এই হামলার দ্বারা দ্বীনের কোন ফায়দা হবে না।”(ফাতাওয়ায়ে শামী: ৬/২০৬,)মাকতাবায়ে যাকারিয়া, দেওবন্দ)
    ★আত্মোৎসর্গের শর্তসমূহ
    কুরআন, হাদীস ও ফুকাহায়ে কেরামের উপরোল্লিখিত বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, আত্মোৎসর্গ হামলা জায়েয, তবে কিছু শর্তের সাথে। ১. নিয়ত সহীহ হওয়া। তথা ই‘লায়ে কালিমাতুল্লাহ, দ্বীনের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্য হতে হবে। যদি দুনিয়াবী কোন ফায়দা হাসিলের জন্য হয়, তাহলে জায়েয হবে না। ২. আক্রমণকারীর প্রবল ধারণা থাকা যে, তার এই হামলার দ্বারা শত্রুর ক্ষতি সাধিত হবে। ৩. যে কোনভাবে তার হামলা দ্বারা মুসলামানদের উপকার হতে হবে।
    ★একটি সংশয় ও তার নিরসন
    কেউ কেউ একটি আয়াতের বাহ্যিক অর্থ থেকে আত্মোৎসর্গ হামলাকে আত্মঘাতী বলে থাকেন। অথচ উভয়টির মাঝে পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে সংশয় ও তার নিরসন নিম্নে তুলে ধরা হলো।
    আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেছেন- “তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।” ৭৮৩ উপরোক্ত আয়াত দ্বারা অনেকে আত্মোৎসর্গ হামলা নাজায়েয হওয়ার দলীল পেশ করে বলেন, আত্মোৎসর্গ হামলা আত্মহত্যার অন্তর্ভুক্ত। অনেক সাহাবী এ ধরনের ব্যাখ্যার আপত্তি করে অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আবু ইমরান আসলাম রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- ﻏﺰﻭﻧﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻧﺮﻳﺪ ﺍﻟﻘﺴﻄﻨﻄﻴﻨﻴﺔ ﻭﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻦ ﺧﺎﻟﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻮﻟﻴﺪ ﻭﺍﻟﺮﻭﻡ ﻣﻠﺼﻘﻮ ﻇﻬﻮﺭﻫﻢ ﺑﺤﺎﺋﻂ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻓﺤﻤﻞ ﺭﺟﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺪﻭ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨﺎﺱ : ﻣﻪ ﻣﻪ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻠﻘﻲ ﺑﻴﺪﻳﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺘﻬﻠﻜﺔ . ﻓﻘﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺃﻳﻮﺏ : ﺇﻧﻤﺎ ﻧﺰﻟﺖ ﻫﺬﻩ ﺍﻵﻳﺔ ﻓﻴﻨﺎ ﻣﻌﺸﺮ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭ ﻟﻤﺎ ﻧﺼﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﺒﻴﻪ ﻭﺃﻇﻬﺮ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﻗﻠﻨﺎ : ﻫﻠﻢ ﻧﻘﻴﻢ ﻓﻰ ﻓﺎﻹﻟﻘﺎﺀ ﺑ

    ﺎﻷﻳﺪﻯ ﺇﻟﻰ ﺃﻣﻮﺍﻟﻨﺎ ﻭﻧﺼﻠﺤﻬﺎ ﻓﺄﻧﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭَ ﺍَﻧْﻔِﻘُﻮْﺍ ﻓِﯽْ ﺳَﺒِﯿْﻞِ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﻭَ ﻟَﺎ ﺗُﻠْﻘُﻮْﺍ ﺑِﺎَﯾْﺪِﯾْﻜُﻢْ ﺍِﻟَﯽ ﺍﻟﺘَّﻬْﻠُﻜَﺔِ ۖۛ ﺍﻟﺘﻬﻠﻜﺔ ﺃﻥ ﻧﻘﻴﻢ ﻓﻰ ﺃﻣﻮﺍﻟﻨﺎ ﻭﻧﺼﻠﺤﻬﺎ ﻭﻧﺪﻉ ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ .
    “আমরা মদীনা থেকে কুসতুনতুনিয়ার উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রা করলাম। রোমানরা তখন শহরের প্রাচীর ঘেঁষে অবস্থান নিয়েছে। আব্দুর রহমান ইবনে খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রাযি. ছিলেন দলের সেনাপতি। এক ব্যক্তি শত্রুদের উপর হামলা করলো, তখন লোকেরা বলতে লাগলো, থাম! থাম! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! এ ব্যক্তি তো নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তখন হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রাযি. বললেন, এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে আমরা আনসারী সাহাবীদের ক্ষেত্রে, যখন আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় নবীকে সাহায্য করলেন এবং ইসলামকে প্রকাশ করলেন তখন আমরা বললাম, এখন আমরা আমাদের সম্পদের মাঝে থাকবো এবং সেগুলো দেখাশোনা করবো। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন ‘তোমরা আল্লাহর পথে খরচ কর এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না।’ সুতরাং ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হলো নিজেদের সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকা, তা দেখাশোনা করা এবং জিহাদ ছেড়ে দেয়া।”(সুনানে আবু দাউদ: ১/৩৪০, হাদীস নং ২৫১৪, হাদীসটি সহীহ)
    এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম জাসসাস রাহ. বলেন- ﻓﺄﺧﺒﺮ ﺃﺑﻮ ﺃﻳﻮﺏ ﺃﻥ ﺍﻹﻟﻘﺎﺀ ﺑﺎﻷﻳﺪﻱ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺘﻬﻠﻜﺔ ﻫﻮ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﻥ ﺍﻵﻳﺔ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻧﺰﻟﺖ ﻭﺭﻭﻱ ﻣﺜﻠﻪ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻭﺣﺬﻳﻔﺔ ﻭﺍﻟﺤﺴﻦ ﻭﻗﺘﺎﺩﺓ ﻭﻣﺠﺎﻫﺪ ﻭﺍﻟﻀﺤﺎﻙ ﻭﺭﻭﻱ ﻋﻦ ﺍﻟﺒﺮﺍﺀ ﺑﻦ ﻋﺎﺯﺏ ﻭﻋﺒﻴﺪﺓ ﺍﻟﺴﻠﻤﺎﻧﻲ ﺍﻹﻟﻘﺎﺀ ﺑﺎﻷﻳﺪﻱ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺘﻬﻠﻜﺔ ﻫﻮ ﺍﻟﻴﺄﺱ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻐﻔﺮﺓ ﺑﺎﺭﺗﻜﺎﺏ ﺍﻟﻤﻌﺎﺻﻲ .
    “হযরত আবু আইয়ূব রাযি. সংবাদ দিলেন যে, নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার অর্থ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করা। আয়াতটি এ ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে। অনুরূপ ব্যাখ্যা হযরত ইবনে আব্বাস, হুযাইফা রাযি. হাসান, কাতাদা, মুজাহিদ ও যাহ্হাক রাহ. থেকেও বর্ণিত আছে। হযরত বারা ইবনে আযিব ও আবীদা সালমানী রা. বলেছেন যে, নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হলো গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ হওয়া।”(আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস: ১/৩২৭, দারু ইহয়ায়িত্ তুরাছিল আরাবী, বৈরুত, লেবানন )
    সুতরাং এ আয়াত দিয়ে আত্মোৎসর্গ হামলা অবৈধ হওয়ার দলীল পেশ করার সুযোগ নেই। স্বয়ং সাহাবীরাও এ আয়াতের বাহ্যিক অর্থকে আত্মোৎসর্গের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মনে করেননি। তাই কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর সন্তুিষ্ট এবং দ্বীনের মর্যাদা সমুন্নত করার লক্ষ্যে ইসলামের শত্রুদের উপর এমনভাবে আক্রমণ করে যে, তার মধ্যে শতভাগ মতৃ্যুর আশঙ্কা রয়েছে, তবুও সে আত্মহত্যাকারী বলে গণ্য হবে না। বরং সে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে, যেমন পূর্বে প্রমাণাদিসহ আলোচিত হয়েছে।
    প্রবন্ধকার: মাওলানা আব্দুর রহীম নওগাঁ
    সত্যায়নে
    মুফতী নূর আহমদ
    প্রধান মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারূল উলূম হাটহাজারী
    মুফতী জসীমুদ্দীন
    মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারূল উলূম হাটহাজারী
    মুফতী ফরিদুল হক
    মুফতী ও উস্তায, দারূল উলূম হাটহাজারী
    সূত্র : দরসুল ফিকহ ১ম খণ্ড, ৩৬৪-৩৭২ পৃষ্ঠা

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 12:49 pm on May 26, 2019 Permalink | Reply  

    ইজরায়েল এগিয়ে, মুসলিমরা কেন পিছিয়ে? 

    ইজরায়েল এগিয়ে, মুসলিমরা কেন পিছিয়ে?

    #প্রশ্ন –কটা মুসলিম কান্ট্রি প্রগ্রেস করেছে বলুন তো? যারা করেছে পেট্রোলের জন্য করেছে…মুসলিম কান্ট্রিগুলোর এ অবস্থা কেন? ইজরায়েল এত প্রগ্রেস করে এগিয়ে গেলো, তার পাশের দেশটা পারলো না কেন?
    [ভারত থেকে প্রশ্ন করেছে – সুমিত পাল]

    #উত্তর – এ প্রশ্নটি বহুল প্রচলিত। ইসলামের পশ্চিমা সমালোচক, ওরিয়েন্টালিস্ট, ইজরায়েলি-ইহুদী এবং হিন্দুস্তানি মুশরিকদের এটি একটি প্রিয় প্রশ্ন।

    দুঃখজনক ভাবে পরাজিত মানসিকতার এবং হীনমন্যতায় ভোগা কিছু মুসলিম আছে যারা এ ধরনের প্রশ্ন দ্বারা বিভ্রান্ত হয়।
    .
    মূলত এ প্রশ্নের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত (অধিকাংশক্ষেত্রে) বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরকে এড়িয়ে যাওয়া এবং গোপন করা হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

    হঠাৎ করে এধরনের কথা শুনে আপনার হয়তো মনে হবে, যে পত্রিকার ছবি এসেছে – ১০ টা ছেলে একসাথে দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। সবার সামনে আছে ইহুদী ছেলেটা, তার পেছনে সাদা চমড়ার খ্রিষ্টান ছেলেগুলো, তাদের পায়ে ঝুলছে হিন্দু ছেলেটে আর সবার পেছনে মুসলিম ছেলেটা ধুকতে ধুকতে আগাচ্ছে।

    অনেক মুসলিম এটুকু চিন্তা করে খুব লজ্জায় পড়ে যান। চিন্তা করা শুরু করেন – আসলেই তো মধ্যপ্রাচ্যে এতো গোলমাল কেন, মুসলিম দেশগুলো এতোও গরীব কেন, ইত্যাদি ইত্যাদি।
    .
    এখানে যে ভুলটা করা হচ্ছে তা হল, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। আর এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বুঝতে আমাদের আরেকটু আগে থেকে চিন্তা শুরু করতে হবে। ইসলামের সূচনার সময় পৃথিবীতে সুপারপাওয়ার ছিল দুটি – রোমান সভ্যতা এবং পারস্য সভ্যতা।

    ইসলাম এ দুটো সভ্যতাকেই পরাজিত করে। খলীফা উমর রাঃ এর শাসনকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সভ্যতা দুটো ইসলামের কাছে হার স্বীকার করে নেয়, এবং ইসলামী খিলাফাহ বিশ্বের একমাত্র সুপারপাওয়ারের আসনে আসীন হয়।
    .
    পরবর্তী প্রায় এক হাজার কিছু কম সময় ইসলাম জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি, অর্থনীতিতে উন্নতি করতে থাকে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে অপটিক্স, কেমিস্ট্রি থেকে শুরু করে ক্যালকুলাস সকল ক্ষেত্রেই অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করে মুসলিমরা। সমগ্র বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা তাদের এসকল প্রযুক্তি ও জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়।

    পাশাপাশি ইসলামী সভ্যতায় কখনই দখলকৃত অঞ্চলের জনগণকে শোষণপূর্বক কেন্দ্রকে শক্তিশালি করার নীতি গৃহীত হয় নি। যেহেতু প্রায় সকল ক্ষেত্রেই দখল অঞ্চলের অধিকাংশ জনগণ ইসলাম গ্রহন করতো, ফলে প্রতিটি অঞ্চলের মুসলিমের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির মাধ্যমে প্রসার হতে থাকে ইসলামী সভ্যতার।

    #সুত্রঃ
    http://www.huffingtonpost.com/…/overcoming-historical-amnes…
    http://www.islamweb.net/…/contribution-of-islam-to-the-worl…
    http://www.muslimheritage.com/article/what-islam-did-us
    https://archive.org/details/04isart
    .
    অন্যদিকে ইউরোপের জন্য এ সময়টা ছিল অন্ধকারের যুগ। ইউরোপিয়ান এ অন্ধকার যুগের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল অর্থনৈতিক, সামাজিক, নৈতিক ও জ্ঞানগত অধঃপতন।

    মজার ব্যাপারটা হল ইউরোপের এ অন্ধকার যুগ থেকে বের হয়ে আসার পেছনে তিনটি মূল ফ্যাক্টরের ভূমিকা ছিল।
    ১) ইসলামী সভ্যতা থেকে জ্ঞান আহরন,
    ২) উপনিবেশ স্থাপন,
    ৩) তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ।

    ইউরোপে রেনেসা এবং এনলাইটেনমেন্টের মশলা যদিও মুসলিমদের কাছ থেকেই গ্রহন করা হয়েছিল, তথাপি এনলাইটেনমেন্টের গুরুদের চিন্তায় ইসলাম ও মুসলিমরা ছিল শত্রু। এবং খ্রিষ্টান ইউরোপকে ধরে নেওয়া হয়েছিল মানবতা ও নৈতিকতার চূড়া হিসেবে। এবং এরকম করাটা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল, যেহেতু তারা অনুধাবন করেছিল।
    .
    এ ব্যাপারে পড়তে পারেন – “Orientalism” by Edward Said

    http://www.muslimheritage.com/…/how-islamic-learning-transf…
    http://socialistreview.org.uk/304/islam-and-enlightenment
    .
    এ সময়টাতে এসে ইউরোপীয় উপনিবেশি শক্তিগুলো সারা বিশ্বে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধন-সম্পদ লুটপাট করে এনে, নিজেদের দেশগুলোর উন্নতি সাধনে মনোযোগ দেয়। হত্যা-লুন্ঠন- ধর্ষন-শোষনের মাধ্যমে তৈরি হয় শিল্প বিপ্লবের (Industrial Revolution) ভিত্তি প্রস্থর।

    শিল্প বিপ্লব এবং ঔপনিবেশিকতার মাধ্যমে মাধ্যমে ইউরোপ অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির দিক দিয়ে শক্তিশালী হতে শুরু করে এবং বিভিন্ন ভাবে ইসলামী খিলাফাহকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র জোরদার করতে থাকে।

    যার ফলশ্রুতিতে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করা হয়, জাতীয়তাবাদ, বর্নবাদ, আরববাদের মত হারাম ও বাতিল চিন্তাধারা মুসলিমদের ভেতর প্রচার করা হয় এবং খিলাফাহর পরিবর্তে জাতি-রাস্ট্রের ধারণা দিকে মুসলিম সমাজগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
    .
    পাশাপাশি এ সময়টাতে মুসলিম বিশ্ব অভ্যন্তরীন বিভিন্ন ত্রুটি এবং সমস্যার কারনে দুর্বল হতে শুরু করে। এ ত্রুটিগ্রুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ ত্যাগ করা এবং দুনিয়ার প্রতি আসক্তি যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদিসে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখিত হয়েছে –
    .
    “যদি তোমরা আর্থিক লেনদেন এবং গরুর লেজ অনুসরণ কর এবং কুষক হয়ে পরিতৃপ্ত— হয়ে যাও এবং জিহাদ প্রত্যাখ্যান কর, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনা অবতরন করবেন যা ততক্ষণ পর্যন্ত উঠিয়ে নেওয়া হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের দীনের দিকে প্রত্যাবর্তন কর।” (আবু দাউদ-সহীহ, অধ্যায় ২৩, নং ৩৪৫৫)
    .
    “শীঘ্রই এমন একসময় আসবে, যখন এই পৃথিবীর বিভিন্ন জাতিরা একে অপরকে মুসলিমদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য পরস্পরকে আহবান করবে, যেভাবে ক্ষুধার্ত নেকড়ে তাদের খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।” কেউ একজন জিজ্ঞেস করলেন,“সেই সময় কি আমরা সংখ্যায় কম থাকবো?”

    উত্তরে রাসুল(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “না, সে সময় সংখ্যায় তোমরা হবে অগণিত। কিন্তু’তোমরা হবে বানের জলে ভেসে আসা খড়কুটোর মতো [অর্থাৎ, শক্তিহীন], শত্রুদের অন্তরে তোমাদের সম্পর্কে যে ভয় আছে আল্লাহ তা উঠিয়ে নেবেন এবং তোমাদের
    অন্তরে তিনি ওয়াহন নিক্ষেপ করবেন।” একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন,“ইয়া রাসুলুল্লাহ! ওয়াহন কি?” রাসুল(সাঃ) বললেন,“দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা আর মৃত্যুর প্রতি ঘৃণা।”
    [আবু দাউদ এবং আহমদ]
    .
    ইসলামী খিলাফাতের পতন ঘটে এ প্রেক্ষাপটে। আর এ প্রেক্ষাপটে উত্থান ঘটে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার বা World Order এর। খিলাফাহর পতনের পর মুসলি ভূখন্ড গুলোকে খন্ড খন্ডে ভাগ করা হয়, এবং শেখানে এমন পুতুল শাসকগোষ্ঠীকে বসানো হয়।

    এ শাসক গোষ্ঠীর কাজ খুব সহজ – জনগণকে ইসলাম থেকে দুড়ে, রাখা, পশ্চিমাদের স্বার্থ সংরক্ষন করা, মুসলিমদের ধন সম্পদ, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ নামমাত্র মূল্যের পশ্চিমাদের হাতে তুলে দেওয়া। আর এর বিনিময়ে পশ্চিমারা এসব শাসকগোষ্ঠীকে লুটপাট করার স্বাধীনতা, সমর্থন ও আন্তর্জাতিক ভাবে বৈধতা করে।

    বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে যে ব্যবস্থা চলছে্‌ সৌদি বাদশা থেকে শুরু করে সিসি, হাসিনা থেকে শুরু করে বাশার আল আসাদ – এদের সবার বাস্তবতা এটাই। এটা ভিন্ন আঙ্গিকে ঔপনিবেশিকতা ছাড়া আর কিছুই না।

    উদাহারণস্বরূপ, খিলাফাহ পরবর্তী সময়ে তিউনিশিয়াতে মুসলিমদের বিদ্রোহের কাছে ধোপে টিকতে না পেরে তখন থেকেই নিজস্ব দালাল শাসক বসিয়ে আজো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে পশ্চিমারা। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মিলনস্থলের এই দেশটি সেখানকার সবচেয়ে রক্ষণশীল মুসলিম জাতি থেকে পশ্চিমাদের সংস্কৃতির অনুসরণে আজ সবাইকে ছাড়ীয়ে গিয়েছে (ইন্না লিল্লাহ)। শুধুমাত্র নিজদেশীয় দালাল শাসকদের চিহ্নিত করতে না পারার ভুলের কারণে… আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের এথেকে শিক্ষা নেয়ার তাওফিক দিন। আমীন।
    .
    বর্তমান মুসলিম বিশ্বের যে অস্থিরতা এর পেছনে মূল কারন হল পশ্চিমারা জানে মুসলিম বিশ্ব যদি স্থিতিশীল হয় তবে তারা তাদের হক্ব আদায় করে নেবে। তারা ইসলামকে আকড়ে ধরবে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নামবে।

    পশ্চিমারা যে লুটপাট আজো চালিয়ে যাচ্ছে তা তখন বন্ধ হয়ে যাবে। মুসলিমরা কি করতে পারে, এটা আজকে অনেক মুসলিমরা ভুলে গেলেও কুফফার তা মনে রেখেছে। তাই মুসলিম বিশ্বে চোর-বাটপাড়দের শাসন ক্ষমতায় টীকিয়ে রাখা, এবং মুসলিম বিশ্বকে অস্থিতিশীল রাখা পশ্চিমের পলিসি।
    .
    একারন বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতিটি অক্ষের, সামরিক অক্ষে ন্যাটো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অক্ষে বিশ্বব্যাঙ্ক, আইএমএফ এবং রাজনৈতিক অক্ষে জাতিসংঘ সকলের মূল উদ্দেশ্য হল মুসলিমদের দাবিয়ে রাখার মাধ্যমে নিজের জমিদারি টিকিয়ে রাখা।

    এবং তারা জানে যে আদর্শ মুসলিমদের এ অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে পারে তা হল জিহাদ এবং শারীয়াহ। একারনে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে জিহাদ ও শারীয়াহর ডাককে নিশ্চিহ্ন করতে, মুসলিমদের অধিয়ার আদায়ের যেকোন চেষ্টাকে পিষে ফেলতে পশ্চিমা ক্ষমতা ও তাদের আঞ্চলিক দোসররা সক্রিয় ভাবে যুদ্ধে লিপ্ত।

    আফগানিস্তানে ন্যাটোর হামলা থেকে শুরু করে মিশরে রাবা ম্যাসাকার। শায়খ আনওয়ার আল আওলাকীকে হত্যা জন্য ড্রোন হামলা থেকে শুরু করে এ ছোট ফেইসবুক পেইজের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার গলা চেপে ধরার বিরুদ্ধে আনন্দবাজারের রিপোর্ট, সবই এ বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের অংশ।

    কৃত্রিম ভাবে ইজরায়েল নামক ক্যান্সারকে টিকিয়েও রাখছে অ্যামেরিকার নেতৃত্বাধীন এ বিশ্বব্যবস্থা।
    .
    তাই দৌড় প্রতিযোগিতার উদাহরনের বাস্তবতা হল পেছনে পড়ে থাকা মুসলিম ছেলেটাকে না একই সময়ে দৌড় শুরু করতে দেয়া হচ্ছে, আর নাই বা তাকে দৌড়াতে দেয়া হচ্ছে, বরং প্রতিবার দৌড় শুরু করার চেস্টার সময় তাকে আঘাত করা হচ্ছে। অন্যদিকে সামনে যে ইহুদী আছে, বাকি সবাইকে থামিয়ে, চারপাশ থেকে ঘিরে রেখে নিরাপত্তা দিয়ে তাকে সবার সামনে নিয়ে আসা হয়েছে – আর তাঁর পর সাংবাদিক ডেকে এনে ছবি তোলা হচ্ছে।
    .
    আর রইল ইজরায়েলের কথা। ইজরায়েলের টিকে থাকার একমাত্র কারন হল ইস্রাইলের পরতি পশ্চিমা বিশ্বের বিশেষ করে অ্যামেরিকার নিয়ত অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক স্মর্থন।

    এবং ইজরায়েলের চারপাশের ভূখন্ডগুলোর, অর্থাৎ মিশর, লেবানন, জর্ডান, সিরিয়ার মুরতাদ-কাফির শাসকদের দ্বারা সে দেশের সামরিক বাহিনীগুলোকে ইস্রাইলের সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পালন বাধ্য করা।

    যদি আজ থেকে এদুটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আগামী কাল ইজরায়েলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার জন্য মাসজিদুল আক্বসার সামনে পাথর হাতে টহলরত তরুণরাই যথেষ্ট।

    ওয়াল্লাহু ‘আলাম।

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 12:47 pm on May 26, 2019 Permalink | Reply  

    পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া কি ইসলাম সমর্থন করে? 

    পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া কি ইসলাম সমর্থন করে?

    #

    প্রশ্নঃ‬ সম্প্রতি টিভি মিডিয়াগুলোতে জঙ্গীদের নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। সেখানে দেখানো হচ্ছে মায়ের মনে কষ্ট দিয়ে ছেলে জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে… বাস্তবতাও তাই।

    এভাবে বাবা-মায়ের মনে কষ্ট দেয়া কি ইসলাম সমর্থন করে? যেখানে আমরা জানি মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত…

    (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)

    ‪#‎উত্তরঃ‬

    শুরুতেই দুটি বিষয় পরিষ্কার করে নিচ্ছি। কেননা, এই পেজের গ্রহণযোগ্যতা নস্যাৎ করতে মিথ্যাবাদী মিডিয়া সারাক্ষণ

    ‪#‎প্রথমত‬, আই এস নামক বিভ্রান্ত গ্রুপে যোগ দেয়ার জন্য যুবক ভাইদের বাড়িছাড়া হওয়া আমরা সমর্থন করিনা, যেমনটা সমর্থন করিনা অন্য কোনো বিদ’আতি দলে যোগ দেয়ার জন্য গৃহত্যাগ করা।
    তাই এই পোস্টের বক্তব্য খারেজিপন্থী IS আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যবহার করে তার দায়ভার আমি নিব না। ওয়াল্লাহু মুস্তা’আন।

    এখানে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার রাস্তায় কুফরের ইমামদের বিরুদ্ধে, মুসলিমদের রক্ত-সম্মান রক্ষার্থে আপোষহীন জিহাদে লিপ্ত হতে হিজরতকারী ভাইদের স্বপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।

    ‪#‎দ্বিতীয়ত‬, পিতামাতার প্রতি হাক্ক আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথিল্যপরায়ণতার প্রতি কাউকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে না (আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে আশ্রয় চাই তা থেকে)।

    মুসলিম হিসেবে আমাদের অবস্থান শুধু মুজাহিদ হওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমরা কারো সন্তান, কারো ভাই, কারো স্বামী কিংবা কারো পিতা… আমরা জিহাদ যেমন করি আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য এবং তা আল্লাহ্‌ তা’আলার হুকুম জেনেই।

    তেমনি পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তানের প্রতিও আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আদায়ে সচেষ্ট থাকবো আল্লাহ্‌ তা’আলার হুকুমের কারণেই।

    তাই সকলকে আল্লাহ’র রাসুল (সা) এর হাদিস মনে করিয়ে দিচ্ছি –

    وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عنهما، عَن النَّبيّ ﷺ، قَالَ: «كُلُّكُم رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ: وَالأمِيرُ رَاعٍ، والرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أهْلِ بَيتِهِ، وَالمَرْأةُ رَاعِيةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجها وَوَلَدهِ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
    ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল, সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জবাবদিহী করবে।

    একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’
    [বুখারি ৮৯৩, মুসলিম ১৮২৯, তিরমিযি ১৭০৫, আবু দাউদ ২৯২৮]

    আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে আমাদের পিতা-মাতার হাক্ক যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

    ‪#‎অতঃপর‬,

    “পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি ‪#‎তাদের_কথা_মানবে_না‬ এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে।“ [সুরা লুকমান: ১৫]

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহর অবাধ্যতায় মানুষের আনুগত্য করা যাবে না।’’
    (মুসনাদে আহমাদ, হাকেম, সহিহ আল-জামে : ৭৫২০)

    উপরের আয়াত এবং হাদিস থেকে প্রমাণিত, শরিয়ার স্বতঃসিদ্ধ নীতি হচ্ছে, “স্রস্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য নেই।“
    .
    .
    অর্থাৎ, পিতা-মাতা যদি এমন আদেশ করে যা আল্লাহ্‌ তা’আলার হুকুমের বিপরীত (যেমন – দাড়ি কাটতে বলা, পর্দা না করতে বলা, মদ খেতে বলা, মানুষকে রব্ব হিসেবে গ্রহণ করতে বলা), তাহলে সে আদেশ মান্য করা বৈধ নয়… এমন আদেশ করা ব্যক্তির ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    অর্থাৎ, আল্লাহ্‌ তা’আলার হুকুমের বিপরীত হুকুম করা ইবাদাতের ক্ষেত্রে শিরক বলে গণ্য হবে। (পড়ুন, ঈমান ও আকিদা, আশরাফ আলি থানভি (রহ))
    .
    এছাড়াও, যখন উম্মতের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হচ্ছে, শিশুদের গণহারে হত্যা করা হচ্ছে, আল্লাহ্‌ তা’আলার বিধি-বিধানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে,
    .
    কুর’আনের পরিভাষা (যেমন- হুর, জান্নাত-জাহান্নাম, তাগুত) নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে,
    আল্লাহ’র রাসুল (সা) কে অবমাননা করা হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে জোরপূর্বক খ্রিস্টান বানানো হচ্ছে,
    .
    তখন, আখিরাতপ্রত্যাশী ব্যক্তি ঘরে বসে থাকতে পারে না। এটাই ঈমানের দাবী…
    .
    .
    এক্ষেত্রে যদি সহিহ বুঝের অভাবে কোনো বাবা-মা সন্তানকে এই ফরজ পালনে বাধা দেয় তবে সন্তানের জন্য বাবা-মার অবাধ্য হওয়া জরুরী।
    .
    .
    এবং, অনেকে মনে করতে পারেন –
    (যেমন, কানাডায় বসে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ রোধে সচেষ্ট এক শাহবাগি কর্তৃক তৈরি একটি ভিডিওতে এমন বার্তা দেয়া হয়েছে যেন, বর্তমান অবস্থা বিগত ১৪০০ বছরে ইসলামী ইতিহাস কখনোই প্রত্যক্ষ করেনি)-

    বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে আল্লাহ’র দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত হওয়া ইসলামের ইতিহাসে বিরল…

    ‪#‎তাদের_জ্ঞাতার্থে‬,

    তাগুত-মুরতাদদের আগ্রাসন ও উলামায়ে কেরামের নিরবতার দরুন, কুফরভিত্তিক সমাজে বসবাস করতে আমাদের অনেক মুসলিম যুবক ভাইদের পিতা-মাতারা বাহ্যিকভাবে মুসলিম হলেও- দুঃখজনকভাবে তাদের আচরণ হচ্ছে সালমান ফারসি (রাদি)’র অগ্নিপূজারী পিতা এবং জান্নাতি সাহাবি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা)’র মায়ের মত।

    সংক্ষেপে আপনাদের জন্য তা তুলে ধরা হচ্ছে,

    পিতার_অবাধ্যতাঃ
    ——————

    সালমান ফারসি (রা)’র পিতা ছিলেন পারস্যের অগ্নিউপাসকদের প্রধান পুরোহিত। তাওহিদের প্রতি সালমান ফারসি (রা) এর ভালোবাসা অগ্নিপুজারি পিতার নিকট স্পষ্ট হওয়ার পর-

    সালমান ফারসি (রাদি)’র ‪#‎সচেতন‬ পিতা উনাকে ঘরে শেকল দিয়ে আটকে রাখে।

    কিন্তু সত্যের প্রতি হজরত সালমান ফারসি (রাদি)’র অদম্য ভালোবাসার দরুন আল্লাহ্‌ তা’আলা হজরত সালমান ফারসি (রাদি) কে সুদূর পারস্য থেকে মদিনায় চলে আসার তাওফিক দান করেন।

    পারস্যবাসী যুদ্ধে শত্রুদের প্রতিহত করতে পরিখা খনন করতো। পরবর্তীতে খন্দকের যুদ্ধে সালমান ফারসি (রা)’র মুসলমানদের মিটিয়ে দিতে আসা আগ্রাসী মিত্রবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে পারস্য থেকে শিখে আসা একই কৌশল অবলম্বন করার পরামর্শ দেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে।

    (সুত্রঃ আর-রাহিকুল মাখতুম, মুসনাদে আহমাদ হা/২৩৭৮৮, সিলসিলা আহাদিসিস সহীহাহ হা/৮৯৪)

    এছাড়াও, আল্লাহ্‌ তা’আলার দ্বীনের আনুগত্য করতে গিয়ে পিতার অবাধ্য হওয়ার আরেক অনুপম দৃষ্টান্ত আমাদের পিতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)।

    উনারাই তো আমাদের আদর্শ !

    যদিও কাফির-মুনাফিকরা আমাদের ভাই-বোনদের সামনে পাপাচারী নর্তক-নর্তকীদেরকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

    মাতার অবাধ্যতাঃ
    ——————

    ইসলামের ইতিহাসে ১৭তম মুসলিম, মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা)’র মাতা শোকে শয্যায় বিছানায় পরে যান… আবু জাহলরা তখন ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করতে সাদ (রা) কে উনার মায়ের দুরবস্থা দেখাতে নিয়ে যান…

    সাদ (রা) তখন শয্যাশায়ী মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
    “মা! আপনি এ কী করছেন? যদি আপনার একশত প্রাণ হয় আর আমার জন্য একটির পর একটি করে সবগুলো নিঃশেষ করে দিন, তবুও আমি মুহূর্তের জন্য ইসলাম ত্যাগ করব না।
    এবার ভেবে দেখুন। ইচ্ছে হলে পানাহার করুন, অন্যথায় বিরত থাকুন।“

    (আল্লাহু আকবার!! এটাই তো সেই ঈমান যা আমাদের মাঝে অনুপস্থিত) !!

    আল্লাহ্‌ তা’আলার দ্বীনের জন্য জন্মদাত্রী মায়ের সাথে এমন আচরণকে সমর্থন করে আল্লাহ্‌ তা’আলা আয়াত নাজিল করেন,

    “আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে ‪#‎তাদের_আনুগত্য_করো_না‬।”
    [সুরা আনকাবুত: ৮]

    এবং সাদ (রাদি)ই হলেন ইসলামের প্রতিরক্ষায় সর্বপ্রথম তীর নিক্ষেপকারী।

    সাদ (রা) নিকটবর্তী হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এই দেখো, আমার মামা; অন্য কেউ এ রকম মামা নিয়ে এসো দেখি।’ (তিরমিজি)।

    (ছুয়ারুম মিন হায়াতুস সাহাবা, ৪র্থ খন্ড, দারুন নাফায়েস, লেবানন;
    রিজালুন হাওলার রাসুল (সা), ১২৪ পৃষ্ঠা, দারুল জিল, লেবানন)

    ইসলামের ইতিহাসে এমন ঘটনা রয়েছে সহস্রাধিক… আগ্রহী ব্যক্তিদের অনর্থক তত্ত্বকথা না ঝেড়ে পড়ালেখা করার আহ্বান রইলো… যা কথার অপচয় রোধ করবে সেই সাথে সময়ও বাঁচবে।
    .
    .

    তবে কিছু জ্ঞানপাপী ‘আলেম’ বর্তমান সময়ে জিহাদের বিধানকে পরোক্ষভাবে রহিত করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলে থাকেন যে পিতা-মাতার অনুমতি ব্যাতিত জিহাদে গমন বৈধ নয়।
    এর স্বপক্ষে তারা নিম্নোক্ত দলীল পেশ করে থাকে।

    সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে,
    جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَأْذَنَهُ فِي الجِهَادِ، فَقَالَ: «أَحَيٌّ وَالِدَاكَ؟» ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ»
    “এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে জিহাদে বের হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে বললেন তোমার পিতামাতা কি বেঁচে আছে? সে বলল, হ্যাঁ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তবে তাদের নিকট জিহাদ করো।”

    অন্য একটি হাদীসে এসেছে

    “রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো কোন আমল শ্রেষ্ঠ? তিনি প্রথমে বললেন সময় মতো নামাজ আদায় করা, পরে বললেন পিতা-মাতার সাথে ভাল আচরণ করা তারপর বললেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।”
    (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)


    এই হাদীস দুটির মাধ্যমে অনেকে বিভিন্নরকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে থাকেন এবং সর্বাবস্থায় জিহাদে যাওয়ার জন্য বাবা-মার অনুমতি জরুরী মনে করেন।

    সকল মুসলিম আলেম একমত যে, সাধারন অবস্থায় জিহাদ ফরজে কেফায়া কিন্তু বিশেষ কিছু অবস্থায় ফরজে আইন হয়ে যায়।
    .
    .
    জিহাদ যখন ফরজে কিফায়া থাকে এবং যথেষ্ট সংখক মুসলিম জিহাদে অংশগ্রহন করে তবে বাকীদের উপর জিহাদে অংশগ্রহন করা বাধ্যতামুলক থাকেনা তারা ইচ্ছা করলে অংশগ্রহণ করে গনীমত ও সূউচ্চ মর্যাদা হাসীল করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে অংশগ্রহণ নাও করতে পারে।
    .
    .
    এই অবস্থায় পিতামাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদ করা বৈধ নয়। কিন্তু জিহাদ যখন ফরজে আইন হয়ে যায় বা যথেষ্ট সংখ্যক মুজাহিদ জিহাদে যোগদান না করেন, তখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়।
    .
    .
    তখন পিতা মাতার অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই যেভাবে নামাজ, রোযার জন্য পিতামাতার অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
    .
    ইবনে হাযার আসকালানী (রঃ) বলেন,
    قَالَ جُمْهُورُ الْعُلَمَاءِ يَحْرُمُ الْجِهَادُ إِذَا مَنَعَ الْأَبَوَانِ أَوْ أَحَدُهُمَا بِشَرْطِ أَنْ يَكُونَا مُسلمين لِأَنَّ بِرَّهُمَا فَرْضُ عَيْنٍ عَلَيْهِ وَالْجِهَادُ فَرْضُ كِفَايَةٍ فَإِذَا تَعَيَّنَ الْجِهَادُ فَلَا إِذْنَ
    জমহুর আলেম বলেছেন পিতামাতা যদি মুসলমান হয় তবে তারা নিষেধ করলে জিহাদ করা বৈধ হবে না কেননা পিতামাতার সাথে সৎ ব্যবহার করা ফরজে আইন আর জিহাদ ফরজে কিফায়া।
    তবে যখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায় তখন কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। (ফাতহুল বারী)

    পরবর্তী হাদীসে যে জিহাদকে পিতামাতার সাথে সৎ ব্যবহারের পরে উল্লেখ করা হয়েছে এটাও ঐ অবস্থায় যখন জিহাদ ফরজে কিফায়া থাকে কিন্তু যখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায় তখন পিতামাতার খেদমতের চেয়ে জিহাদ করা অধিক ফজীলতের আমল হবে।

    এ বিষয়ে বহু হাদীস বর্ণিত আছে।
    যেমনঃ
    جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال دلني على عمل يعدل الجهاد قال ( لا أجده ) . قال ( هل تستطيع إذا خرج المجاهد أن تدخل مسجدك فتقوم ولا تفتر وتصوم ولا تفطر ) قال ومن يستطيع ذلك
    “একজন ব্যক্তি রসুলুল্লাহ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল হে আল্লাহর রসুল আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত মুজাহিদদের সমান পুরুষ্কার পেতে পারি।
    তিনি বললেন, তুমি কি (মুজাহিদ ফিরে না আসা পর্যন্ত) অনবরত ক্লানি-হীনভাবে নামাজ আদায় করতে ও কোনোরুপ পানাহার ব্যতিরেখেই রোযা রাখতে সক্ষম?

    উক্ত ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রসুল, কে এই কাজ করতে সক্ষম? (সহীহ বুখারী)
    .
    .
    আর যদি আমরা মেনেও নিই যে পিতামাতার সাথে ভাল আচরন করা জিহাদের চেয়ে উত্তম তবে এর অর্থ কি এই যে পিতামাতার সাথে ভাল আচরণ করলেই জিহাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে।

    একই হাদীসে তো নামাজকে পিতামাতার সাথে ভাল আচরণের পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ কি এ যে যেহেতু নামাজ পিতামাতার সাথে ভাল আচরণের তুলনায় উত্তম আমল তাই একজন মুসল্লির জন্য পিতামাতার খেদমতের প্রয়োজন নেই?
    .
    .
    একটি কাজ অন্য একটি কাজ থেকে উত্তম হলেই অন্য কাজটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায় না।
    বরং মুক্তি পেতে হলে প্রতিটি ফরজ দায়িত্বই নিষ্ঠার সাথে আদায় করতে হবে।


    উপরোক্ত আলোচনা শেষে আরেকটি বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক ইসলামবিদ্বেষী শাসক যার প্রধান শেখ হাসিনা সে বর্তমানের আবু জাহলের জায়গা দখল করে নিয়েছে।

    অথচ! অভাগা বাবা-মা বুঝতে পারছে না, র‍্যাব-ডিবির কুকুরগুলো তাদের সন্তানদের কাছে পেলে ছিঁড়েখুঁড়ে খাবে… প্রমোশনের লোভে এই নিকৃষ্ট কুকুরগুলোর জিভে লালা ঝরছে।

    এই হতভাগা বাবা-মায়েরা মুরতাদদের কাছে সন্তানদের তথ্য ফাঁস করে দিয়ে সন্তানদের বাঁচাতে চাচ্ছে। হায়! শিয়ালের কাছে মুরগি বন্ধক দিতে চাচ্ছে…
    আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের হিদায়াত দান করুন।


    সন্তানের প্রতি মায়ের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন কুফর সর্দার আবু জাহলের রূপে আবির্ভূত হয়েছে ক্রুসেডার-ভারতীয় দালাল শেখ হাসিনা ও তার পোষা কুকুরেরা।


    তাদের প্রপঞ্চনির্ভর বিজ্ঞাপনগুলো এর জলজ্যন্ত প্রমাণ। এধরণের প্রোপাগান্ডা দ্বারা নিজ আদর্শে দৃঢ় কোনো মুসলমান ধোকা খেতে পারেনা। বাকিদের কথা আলাদা।

    নিশ্চয়ই হাল জামানার ফিরাউনের এসকল চক্রান্ত বর্তমানের মুহাম্মাদ বিন মাসলামা,সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস, সালমান ফার্সি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দের রুখতে পারবে ব্যর্থ হবে। বি’ইজনিল্লাহ।

    যেমনটা পূর্বেও হয়েছে।

    এবং, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্যই।

    সংগৃহীত

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 12:44 pm on May 26, 2019 Permalink | Reply  

    শাসকদের অপরাধের দায় জনগণ কেন নিবে? 

    শাসকদের অপরাধের দায় জনগণ কেন নিবে?

    #প্রশ্নকারীঃ শাহবাগী ব্লগার নিঝুম মজুমদার, জংগীবাদ গবেষক। (http://www.facebook.com/nijhoom.majumdar)

    #প্রশ্নঃ রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত কিংবা ডিপ্লোমেটিক স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত কেন নিরীহ সেই দেশের মানুষের উপর বর্তাবে? আমেরিকা ও বৃটেন কিংবা পশ্চিমা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বা আক্রমোনের বিপক্ষে ছিলো ও আছে। রাষ্ট্রীয় উপর একই স্ট্র্যাটেজিও এই ইসলামী জঙ্গীদের মূল মাথাদের।

    #উত্তরঃ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের মাধ্যমে ইসলাম, সহিংসতার রাজনৈতিক ব্যবহার এবং বর্তমান পশ্চিমা রাষ্ট্রের কাঠামোগত এবং তাত্ত্বিক গঠন সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
    একাধিক দৃষ্টিকোন থেকে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
    .
    প্রথমতঃ আমাদের, অর্থাৎ জঙ্গিদের জন্য মূল গাইডিং কম্পাস হল ইসলামী শারীয়াহ। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক – সকল ক্ষেত্রেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, অ্যাপ্রোচ এবং চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রিত হয় শুধুমাত্র শারীয়াহ দ্বারা। আমরা পরাজিত মানসিকতার ‘মডারেট” মুসলিম, কিংবা নামধারী সেক্যুলার মুসলিমদের মতো ইসলামের দাবি করে, পশ্চিমা চিন্তাধারার কাঠামোতে ইসলাম খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করি না।
    একারনে এ প্রশ্নের, সব প্রশ্নের ক্ষেত্রেই আমরা প্রথমে দেখি ইসলামের অবস্থান কি।
    .
    শরীয়াহ অনুযায়ী কোন সম্প্রদায় যদি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় তবে, তবে মুসলিমদের অধিকার আছে সে সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবার। এ বিষয়টি ইন্টুয়িটিভ এবং মোটামুটি পরিমান মস্তিষ্ক আছে এমন সব লোকই ব্যাখ্যা ছাড়াই এ বিষয়টি অনুধাবন করে।

    তবে যে জায়গাতে অনেক ক্ষেত্রে কনফিউশান দেখা দেয় তা হল, যদি কোন কাফির সম্প্রদায় আমাদের উপর আফগানিস্তানে, কিংবা ইরাকে অথবা সিরিয়াতে আক্রমন করে তবে কি তাদের উপর শুধুমাত্র ইরাকে, সিরিয়াতে কিংবা আফগানিস্তানে আক্রমনের বৈধতা শরীয়াহ দেয়?
    .
    উত্তর হল না।

    বরং আক্রমনকারী যেভাবে আমাদেরকে আমাদের ভূখন্ডে আক্রমন করেছে তেমনি তাদেরকেও তাদের ভূখন্ডে আক্রমন করা জায়েজ এবং উপযুক্ত। একইভাবে আক্রমনকারী সম্প্রদায় যদি মুসলিমদের উপর সীমালঙ্ঘন করে তবে, একই পরিমানে তাদের বিরুদ্ধে সীমালঙ্ঘন করা বৈধ। যদি কাফিরদের বিমান মুসলিমদের শহরের উপর এসে ঘুমন্ত মুসলিমদের উপর বোমা ফেলে এবং এতে নিহত হয় নারীপুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ, তবে অবশ্যই মুসলিমদের অধিকার আছে কাফিরদের শহরে গিয়ে কাফিরদের নারী-শিশু-বৃদ্ধদের হামলার নিশানা বানানোর।
    যদি কাফিররা, বিশেষ করে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট সারা পৃথিবী জুড়ে ইচ্ছেমতো যখন ইচ্ছা, যেখানে ইচ্ছা মুসলিম নাগরিকদের উপর আক্রমন করে, খোড়া অজুহাত দেখিয়ে, তবে মুসলিমদের অধিকার আছে বিশ্বের যেকোন জায়গায়, যখন ইচ্ছা কাফিরদের, বিশেষ করে ন্যাটো জোটের অন্তর্ভুক্ত কাফিরদের দেশের নাগরিকদের উপর হামলা করার।
    .
    যেমন কাফিররা যদি মুসলিমদের কোন শহরের উপর বোমা ফেলে, তখন তাতে করে শুধু মাত্র মুসলিম যোদ্ধারা মারা যায় না, মারা যায়, সাধারণ মুসলিম জনগণও। যেমন আফগানিস্তানে তালেবান মুজাহিদিন এর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে যখন আমেরিকা বোমা ফেলে, কিংবা সিরিয়াতে, কিংবা মালিতে, কিংবা ইয়েমেনে একিউএপি এর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে – কাফিররা যখন বোমা ফেলে তখন সেটাতে শুধুমাত্র “জঙ্গিরা” মারা যায় না। যদিও পিন পয়েন্ট টার্গেট করার সক্ষমতা কাফিরদের আছে, সে প্রযুক্তি তাদের আছে।
    একইভাবে কাফিররা যখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তখন এর ফলে যে দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে শুধুমাত্র তার ক্ষমতাসীনরা দুর্বলই হয় না, ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারণ জনগণ। যেমন ৯০-এর দশকে ইরাকের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় অভুক্ত থেকে মারা গিয়েছিল ১০ লক্ষ শিশু। একইভাবে আফগানিস্তানে ডক্টরস উইতআউট বর্ডারস (MSF) এর হাসপাতালে অ্যামেরিকার বোমা হামলা, সিরিয়াতে MSF –এর হাসপাতালে রাশিয়ার বোমা হামলা, এগুলো আন্তর্জাতিক আইন নামক কাল্পনিক বস্তুর অধীনেই যুদ্ধাপরাধ, তথাপি, অ্যামেরিকা এবং পশ্চিম এ নিয়মগুলো মেনে চলা দরকার মনে করে না।
    .
    এরকম অসংখ্য উদাহরণ দ্বারা স্পষ্ট সামরিক-বেসামরিকের এ পার্থক্য কাফিররা করে না কিন্তু তার এবং তাদের আদর্শিক জারজ সন্তানেরা আশা করে, যে নীতির অনুসরণ তারা মুসলিমদের হত্যা করার সময় অনুসরণ করে না, সে নীতির অনুসরণ মুসলিমরা করুক!! মুসলিমরা সম্মানিত, আদর্শিক ও সত্যবাদী জাতি। কিন্তু মুসলিমরা নির্বোধ না।
    যদি কাফিররা আমাদের জনগণকে কোন বাছবিচার ছাড়া হত্যা করা নিজেদের জন্য বৈধ পরিগনিত করে নেয়, যদি তারা আমাদের নারী ও শিশুদের হত্যা করে, যদি তারা যুদ্ধের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে তবে তাদেরকে একই ভাবে হামলা করা হবে, যেভাবে তারা হত্যা করে, সেভাবে তাদের হত্যা করা হবে, যেভাবে তারা বন্দী করে সেভাবে তাদের বন্দী করা হবে এবং আমরা সীমালঙ্ঘনকারী হবো না। কারন আগ্রাসনকারীর আগ্রাসনের জবাব দেয়া সীমালঙ্ঘন না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন –
    .
    সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সকল সীমালঙ্ঘনের (হুরুমাত) জন্য রয়েছে ক্বিসাসের নীতি। বস্তুতঃ যারা তোমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরা তাদের উপর সীমালঙ্ঘন কর, যেমন সীমালঙ্ঘন তারা করেছে তোমাদের উপর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা মুত্তাক্বী, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন। [আল-বাকারা, ১৯৪]
    .
    এ ব্যাপারে বিখ্যাত আলিম শায়েখ সালেহ আল উসাইমীনের বক্তব্য দেখুন –
    https://www.youtube.com/watch?v=bPVpv_afBHA
    .
    অতএব প্রথমত শারীয়াহগত অবস্থান থেকে সীমালঙ্ঘনকারী কাফির ক্বওমকে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়াহ বৈধ। ইটালি আফগানিস্তান এবং বর্তমানে ইরাক-সিরিয়াতে ন্যাটো ও অ্যামেরিকান জোটের সদস্য অর্থাৎ তারা সেসব যুদ্ধরত কাফিরের অন্তর্ভুক্ত যারা মুসলিম বেসামরিক লোকদের, নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করেছে এবং করছে।

    একইভাবে জাপান বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়াতে অ্যামেরিকান জোটের অন্তর্ভুক্ত না হলেও আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের সদস্য ছিল, অর্থাৎ আফগানিস্তানের লাখ লাখ নারী-শিশু-বৃদ্ধদের হত্যায় তারা যুক্ত ছিল। আর অ্যামেরিকা ভারতের ব্যাপারে আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। সুতরাং এসব দেশের নাগরিক হারবী কুফফার, বা যুদ্ধরত কাফির যাদের সকলের রক্ত শারীয়াহ অনুযায়ী সর্বাবস্থায় হালাল।
    .
    দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের স্ট্র্যাটিজি নিয়ে চিন্তাভাবনা থেকে ঐ সমস্ত লোকদের বিরত থাকা উচিৎ যারা মনে করে যুদ্ধ হল সরকারের ছত্রছায়ায় শাহবাগে স্লোগানবাজী করা, যারা মনে করে বিপ্লব হল শাহবাগে গিয়ে বিরিয়ানী খাওয়া। যুদ্ধের কৌশলের আলোচনা থেকে ঐসব লোকদের বিরত থাকা উচিৎ যারা না কোনদিন যুদ্ধের ময়দানে থেকেছে আর না-ই-বা যুদ্ধের ময়দানে যাবার ইচ্ছা তাদের আছে।

    যেসকল ছাপোষা-গৃহী-বাঙ্গালের জীবনের উদ্দেশ্য হল ভালোয় ভালোয় নির্বিঘ্নে জীবন কাটিয়ে দেয়া আর মাঝেমধ্যে বিরিয়ানী খাওয়া-ফেইসবুকে প্রোফাইল পিকচার বদলানো আর স্লোগানবাজীর পার্ট-টাইম “বিপ্লব” করা – তাদের উচিৎ যুদ্ধ কৌশল সংক্রান্ত আলোচনা থেকে বিরত থাকা। অন্ধের কাছ থেকে মানুষ বৃষ্টির সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনতে চায় না।
    .
    যুদ্ধরত পশ্চিমা দেশ ও তাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে মুজাহিদিন নেতৃবৃন্দের অবস্থান হল, তাদেরকে বিশ্বময় আঘাত করা। এর মাধ্যমে মুসলিম মানসে কাফির শক্তিগুলোর তথাকথিত অজেয় রূপকে ধ্বংস করে দেয়া, বিশ্বময় আগ্রাসী কাফির রাষ্ট্রগুলোকে হামলার মাধ্যমে ব্যতিব্যস্ত করে রাখা, পশ্চিমা দেশগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীন চাপ সৃষ্টি করা, কারণ কাফিররা মুসলিম বিশ্ব নিয়ন্ত্রন করতে চাইলেও, এজন্য নিজেদের লোকজন মারা যাবে এটা তারা মানতে চায় না।

    তাই বিশ্বজুড়ে যখন আগ্রাসী পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো হামলার সম্মুখীন হয় তখন তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংহতি (social cohesion) চাপের মুখে পড়ে। পাশপাশি পশ্চিমাদের উপর আক্রমন তাদের নিবৃত্তকরণের (deterrent) কাজ করে, যেমন মাদ্রিদ বম্বিং এর কারণে স্পেন বাধ্য হয়েছিল ইরাক যুদ্ধ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে। তবে আর্ম চেয়ার থিওরিস্ট যাদের বিপ্লব পাঠচক্র, বিরিয়ানি চক্র, লীগের লেজূরবৃত্তি আর প্রোফাইল পিকচার বদলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ তারা এ সূক্ষ বিষয়সমূহ অনুধাবনের সক্ষমতা রাখে না।
    .
    পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক শিশুরা যতোই টিটকারি দেবার চেষ্টা করুক না কেন বাস্তবতা হল – বিগত কয়েক বছরের ক্রমাগত ও ক্রমবর্ধমান হামলাতেই তাদের “মুক্তিযুদ্ধের চেৎনার শক্তি”-র সরকারের দিশেহারা হবার অবস্থা হয়েছে। যদিও আক্রমন হিসেবে এগুলো এমন কোন বৃহদাকারের হামলা ছিল না। যদিও খেলো করা চেষ্টা করুক না কেন, বলা যায় আওয়ামী ও চেতনাৎসিদের হাটু কাপাকাপি শুরু হয়ে গেছে, গলা শুকিয়ে গেছে।

    চাপাতি ক্যাম্পেইনে যেমন মুরতাদের দল দেশ ছেড়ে পালানোর কাফেলা শুরু হয়েছিল, তেমনি সাম্প্রতিক কিছু আক্রমনের পর লীগার এবং লীগের দালালরা অস্থির হয়ে উঠেছে, যার ফলাফল হল শান্তিবাদী জাকির নায়েকের অহিংস ব্যাখ্যার মধ্যেও তারা এখন জঙ্গিবাদ খুঁজে পেয়েছে। ভীত সন্ত্রস্থ প্রতিপক্ষের হঠকারী প্রতিক্রিয়ার টেক্সটবুক এক্স্যাম্পল হিসেবে এ পদক্ষেপ স্মরনীয় হয়ে থাকবে। ইতিমধ্যে কাফির রাষ্ট্রগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে হা-হুতাশ শুরু হয়ে গেছে।
    .
    একথা পরিষ্কার যে যদি এই ধারা বজায় রাখা হয় তবে ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক চিন্তার যে লাভ লোকশানের যে গালভরা চিন্তার কথা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী পাতি বুদ্ধিজীবীরা আওড়ান এবং নিজেদের বুদ্ধিমান ভাবেন, সেটার সম্পূর্ণ ভাবে ভরাডুবি হবে।

    যদি কিছু হামলার জন্য গার্মেন্টস শিল্প, জাইকা, বৈদেশিক বিনিয়োগ, পর্যটন শিল্প অনিশ্চয়তাতে পড়ে যায়, যদি বিদেশী হ্যান্ডলারদের তিন দিনের সফরে আসতে হয়, যদি ইসরাইলের কাছে হিন্দুদের চিঠি লিখতে হয়, ইন্ডিয়া থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ দল আনতে হয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে হয়, যদি পাঁচজন ছেলেকে (বাচ্চা ছেলে??) মোকাবেলার জন্য র্যা ব-পুলিশ-ডিবি-এসবি-সিআইডি-বিজিবি-নেভির কয়েক হাজার অপদার্থের দশ ঘন্টা সময় লাগে, তাহলে যখন পুরুষদের সম্মুখিন হবে এ অপোগন্ডরা তখন তাদের অবস্থা কি হবে?

    মেসেজটা পরিষ্কার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিদেশী কুফফার ও তাদের এদেশী এজেন্ট ও ইসলামবিরোধীদের নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা এ সরকারের নেই। আর নাই বা আছে বিরোধিদলের, সুশীল সমাজের, শাহবাগের, কিংবা অন্য কোন লবি কিংবা গোষ্ঠীর। অতএব কৌতুক করার চক্ষুলজ্জা উদ্রেককারী হাস্যকর প্রচেষ্টা পাতি-বুদ্ধিজীবীরা চালিয়ে যেতে পারে বটে, কিন্তু সেটা দিয়ে নিজেদের বুঝ দেয়াই শুধু হবে। বাস্তবতার মোকাবেলা করা হবে না।
    .
    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আদর্শিক ময়দানে ইতিমধ্যেই জঙ্গিদের বিজয় হয়েছে। এনএসইউ থেকে শুরু করে মাদ্রাসা, ঢাকা ভার্সিটি থেকে শুরু করে পাঠশালা সকল ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে জঙ্গিরা ব্যাপকভাবে বিজয়ী। না উচ্চবিত্তের সন্তানকে আর নাই বা গরীব-দুখী খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানকে – কাউকেই আর চেতনার ট্যাবলেট খাওয়ানো যাচ্ছে না।

    বরং সর্বসস্তরের তরুণরা চেতনা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বস্তুবাদ, ভোগবাদ, উপযোগবাদকে প্রত্যাহ্যা করে বেছে নিচ্ছে ইসলামকে। আর তাই প্রতিদিনই তরুণরা কেন জঙ্গিবাদে ঝুকছে তা নিয়ে লিখতে লিখতে বুদ্ধিব্যবসায়ীয়রা গলদঘর্ম হচ্ছে। সব মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক থেকে ছাপা , সব কিছু সরকার, শাহবাগী এবং সুশীল বুদ্ধিব্যবসায়রীদের হস্তগত হবার পরও, জঙ্গিদের হাতে বলতে গেলে কোন মিডিয়া না থাকার পরও আদর্শিক ময়দানে এরকম বেদম পরাজয় শাহবাগী-সেকুলাঙ্গারদের জন্য আসলেই লজ্জার বিষয়। স্রোতের বিপরতে জঙ্গিবাদ এখন স্রোতে পরিণত হয়েছে। ভাসিয়ে নিয়ে আচ্ছে শাহবাগী-সেকু্যলার-সুশীল-চেতনাচিন্তার আবর্জনা।

    আর এ স্রোত মোকাবেলা করার নুন্যতম সক্ষমতা, প্রস্তুতি, যোগ্যতা প্রশ্নকারী কিংবা তার সমগোত্রীয়দের নেই। হাস্যরসের মর্মান্তিক ভাবে ব্যার্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজ ক্লাবের সদস্যদের মনোরঞ্জন হয়তো তারা করতে পারবে। কিন্তু নতুন ভাবে তাদের “আদর্শে” উজ্জীবিত কাউকে তারা করতে পারবেন না। অন্যদিকে আল্লাহর ইচ্ছায় জঙ্গিবাদের এ আদর্শের প্রচার ও প্রসার বাংলাদেশে এবং সারা বিশ্বে শুধু বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। আর তাত্ত্বিকদের এটা মনে রাখা উইত, জঙ্গিবাদের আদর্শ নিষ্ক্রিয় কথক তৈরি করে না, কর্মী তৈরি করে।
    .
    বাঙলা বুদ্ধিব্যবসায়ীর চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী প্রশ্নকারী যা জানেন না তা নিয়ে একটা মন্তব্য করে ক্রেডিট নেয়া এবং নিজেকে জ্ঞানী প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। মুজাহিদিন নেতৃত্বের আদর্শ কি? অবস্থান কি? সেটা না জেনেও তিনি ফট করে বলে বসেছেন জংগীদের মূল মাথাদের চিন্তাভাবনা কি। যেন তিনি খুব জানেন জঙ্গিদের মূল মাথারা কি চিন্তা করেন।

    এ ধরনের ডিলিউশনাল, নার্সিসিস্টিক, আমি কি হনু রে – জাতীয় অসুস্থায় ভোগা পাতি-বুদ্ধিজীবিদের অবগতির জন্য বৈশ্বিক জিহাদের আমীর হাকীমুল উম্মাহ শায়েখ ডঃ আইমান আয যাওয়াহিরীর হাফিযাহুল্লাহ – এর একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরা হল, যা মূলত ইতিপুর্বে আমরা যা আলোচনা করেছি তারই সারসংক্ষেপ।
    .
    শায়খ ডঃ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ বলেছেন –
    .
    “তোমরা অ্যামেরিকার জনগণেরা হয়তো যুক্তি দেখাবে যে উপরের কোন কিছু দিয়েই বেসামরিক জনগণের উপর হামলার বৈধতা প্রমাণিত হয় না। তোমরা বলতে পারো বেসামরিক নাগরিকেরা যে অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহন করে নি তার কারনে তাদের হামলা করা বৈধ হতে পারে না। কিন্তু এসব যুক্তি তোমরা নিজেরাই যেসব বুলি ক্রমাগত আওড়াতে থাকো তার সাথে সাঘর্ষিক। তোমরা বলো তোমাদের দেশ হল স্বাধীনতার দেশ, তোমরা হলে বিশ্বে মুক্তি ও স্বাধীনতার পতাকাবাহী।

    সুতরাং অ্যামেরিকার জনগণ নেতাদের ঘোষিত পলিসির সাথে নিজেদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক নেতাদের সরকারের চালানোর জন্য নির্বাচিত করে। একইভাবে অ্যামেরিকার জনগনে দশকের পর দশক ধরে অ্যামেরিকাকতৃক ইস্রাইলকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া এবং ফিলিস্তীনের দখলদারিত্বের ব্যাপারেও একমত পোষণ করে। অন্যদিকে অ্যামেরিকার জনগণ যদি চাইতো তবে তারা তাদের সরকার ও নেতাদের এসব পলিসি প্রত্যাখ্যান করতে পারতো…

    এসব কারনে রাষ্ট্র হিসেবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অ্যামেরিকার অপরাধে অ্যামেরিকান নাগরিকদের কোন ভূমিকা নেই এমন দাবি করা হাস্যকর। আল্লাহ আমাদের জন্য ক্বিসাস বাধ্যতামূলক করেছেন। সুতরাং যদি কেউ আমাদের আক্রমন করে, আমাদের শহর ও গ্রামগুলোকে ধ্বংস করে, আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে, আমাদের সম্পদ লুট করে আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে তবে তাদের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা, তাদের শহর ও গ্রামগুলোকে হামলার নিশানা বানানো, তাদের অর্থনীতি ধ্বংস করা আমাদের (আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত) অধিকার।“

    [“অ্যামেরিকান নাগরিকদের প্রতি চিঠিঃ কেন আমরা তোমাদের প্রতিরোধ করি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি,” আস-সাহাব মিডিয়া]

    “আইএস” নামক দলটির ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি –
    https://www.facebook.com/PleaseGivePeaceAChance/posts/1585411858420183:0

    https://www.facebook.com/PleaseGivePeaceAChance/photos/a.1584790118482357.1073741828.1584504881844214/1585944181700284

    https://www.facebook.com/PleaseGivePeaceAChance/posts/1587153798245989:0

    সংগৃহীত

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 12:41 pm on May 26, 2019 Permalink | Reply  

    জঙ্গিরা শাস্তি দেয়ার কে? 

    জঙ্গিরা শাস্তি দেয়ার কে?

    চট্টগ্রামের_মেয়র মহিউদ্দিন প্রশ্ন করেছেনঃ আল্লাহ’র রাসুল (সা) কে অবমাননা করে থাকলে সেটার বিচার আল্লাহ্‌ করবেন। জঙ্গিরা শাস্তি দেয়ার কে?

    #উত্তরঃ

    মেয়র মহিউদ্দিন এবং উনার সমগোত্রীয় ব্যক্তিদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই,

    “আপনারা কেন চুরি, ডাকাতি, হত্যা ইত্যাদির বিচার করার জন্য এতবড় বিচারবিভাগ রেখেছেন?

    ছেড়ে আপনারা নিজেরা কেন তাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করলেন?

    শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের বিচার কেন আপনারা নিজেরা করলেন?

    আল্লাহ্‌ তা’আলার রাসুল (সা)’র অবমাননার শাস্তি দেয়া যায় না অথচ শেখ হাসিনাকে অবমাননার শাস্তি দেয়া যায় কিভাবে?

    তখন কেন ”বিচার আল্লাহ্‌ করবেন” এজাতীয় কথা সামনে আসলো না??”

    বাস্তবতা হচ্ছে, এধরণের লোকদের কাছে আল্লাহ’র রাসুল (সা) এর কোনো মূল্য নেই দেখেই এধরণের প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসা হয়। অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকলে এধরণের জঘন্য যুক্তি কেউ পেশ করতে পারে না।

    কেননা, আল্লাহ্‌’র রাসুল (সা) বলেন, “” ততক্ষন পর্যন্ত তোমাদের কেউ পরিপূর্ন ঈমানদার হতে পারবেনা যতক্ষন পর্যন্ত আমি তার কাছে বেশি প্রিয় হব তার মাতাপিতা , সন্তান-সন্ততি, মানুষ ও সবকিছুর চেয়ে।” (বুখরী শরীফ)

    মূলতঃ গণতান্ত্রিক দলগুলোই হচ্ছে এদেশের সর্বনিকৃষ্ট ধর্মব্যবসায়ী। এদেশের সাধারণ মুসলমানের সেন্টিমেন্টকে নিয়ে এরা প্রতিনিয়ত তামাশা করে চলেছে। অথচ, এদেশের সরলমনা মানুষগুলো তা ধরতে পারছে না। আল্লাহ্‌ তা’আলা সহজ করুন।

    মুসলিম হিসেবে আমাদের আবশ্যক দায়িত্ব হল প্রতিটি বিষয়ে একমাত্র শারীয়াহ এবং একমাত্র শারীয়াহ ভিত্তিতে করনীয় ঠিক করা। মুসলিম হবার আবশ্যক শর্ত যেকোন ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তার রাসূল (সাঃ) এর সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহন করা।

    কোন মানুষের বানানো আদর্শ বা আইনের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করার ইখতিয়ার আল্লাহ আমাদের দেন নি।
    .
    মহান আল্লাহ দ্বীন ইসলামকে একটি পূর্নাঙ্গ জীবন-বিধান হিসেবে নাযিল করেছেন। এ দ্বীনে যেমন নামাযের পড়ার নিয়ম কি হবে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নির্ধারিত করা আছে, তেমনি ভাবে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি কি হবে তাও নির্ধারিত করা আছে। যেমন চুরির শাস্তি হাত কাঁটা।
    যিনার শাস্তি অবিবাহিতের জন্য দোররা, এবং বিবাহিতের জন্য রযম। তেমনি ভাবে দ্বীন ইসলামে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –কে অবমাননার শাস্তি হত্যা।

    চার মাযহাবের ইমাম এ ব্যাপারে একমত। এবং সমগ্র উম্মাহর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসলিমদের এ ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমত রয়েছে।
    .
    এমনকি একজন ইমাম বলেছেন কোন ব্যক্তি যদি বলে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) জামার বোতাম ময়লা, যদি এতোটুকু সমালোচনা কেউ করে তবে তাকে হত্যা করা উচিৎ। সুতরাং অবমাননা করলে হত্যা করা হবে এটাই স্বাভাবিক। অবমাননাকারীর শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া সম্পর্কে অসংখ্য দলীল আছে যার মধ্যে শুধু একটি এখানে দেওয়া হল –


    من سب نبيًّا فاقتلوه ومن سب أصحابى فاضربوه
    হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি নবীকে গালি দেয়, তাকে হত্যা কর। আর যে সাহাবীকে গালি দেয়, তাকে প্রহার কর। {জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২২৩৬৬, জমউল জাওয়ামে, হাদীস নং-৫০৯৭, দায়লামী, ৩/৫৪১, হাদীস নং-৫৬৮৮, আস সারেমুল মাসলূল-৯২}
    .

    বিস্তারিত দেখুন – http://bit.ly/29RRU7d
    .
    চুরি বা রযমের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে যেমন “বিচার আল্লাহ করবেন” এমনটা বলা যৌক্তিক না তেমনি ভাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অবমাননাকারীর ক্ষেত্রেই “বিচার আল্লাহ করবেন” এটা বলা যৌক্তিক না।
    .
    পাশাপাশি সাধারণ বুদ্ধি বিবেচনাগত অবস্থান থেকেও দেখা যায়, কেউ যদি আপনার জমি দখল করে নেয়, “বিচার আল্লাহ করবেন” বলে আপনি হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। মা-কে ছেলের সামনে জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় তাহলে ছেলে “বিচার আল্লাহ করবেন” বলে কাপুরুষের মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে না।

    তাহলে নিজের জীবন, ধন-সম্পদ ও পরিবারের চাইতেও অধিক প্রিয় মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (সাঃ) অবমাননা করা হবে আর মুসলিমরা “আল্লাহ বিচার করবেন” এ বলে, শারীয়াহর বিধানের সরাসরি অবাধ্যতা করে হাত গুঁটিয়ে বসে থাকবে এটা কখনোই যৌক্তিক হতে পারে না।
    .
    পরিশেষে শেষ করছি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর একটি উক্তি দিয়ে যা তিনি সে অন্ধ সাহাবীর কাজের প্রশংসা করে বলেছিলেন যিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে নিয়ে কটূক্তিকারিণী বনী খাতমার নারীকে হত্যা করেছিলেন –

    “এটি (অবমাননকারীকে হত্যা করা) এমন একটি বিষয় যা নিয়ে দুটো ছাগলও ঝগড়া করবে না।” [আল ওয়াকিদি এটি বর্ননা করেছেন]
    .
    আমরা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ এর অনুসারী। গান্ধীর অনুসারী না।

    আল্লাহ আমাদের রাসূলুল্লাহর সাঃ যোগ্য অনুসারী হবার তাউফীক দান করুন।

    এ ভূমির সকল অবমাননাকারী ও কটুক্তিকারী নির্মূল করার তাউফীক দান করুন।

    আল্লাহুম্মা আমীন।

    সংগৃহীত

     
  • ইসলামের জন্য যুদ্ধ 12:36 pm on May 26, 2019 Permalink | Reply  

    IS কতটুকু সঠিক? 

    IS কতটুকু সঠিক?

    #প্রশ্নঃ IS এর সম্পর্কে জানতে চাই। তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারবেন কি?

    প্রশ্ন করেছেন মুহতারামা ফারজানা আক্তার।

    #উত্তরঃ

    ২০০৩ সালে ইরাকে আমেরিকান আগ্রাসনের পর আমিরুল ইশতিশহাদি শায়খ আবু মুস’আব আজ জারকাউয়ি (রহ)’র নেতৃত্বে আল-কায়েদা ইরাক শাখা ঘোষিত হয়। আল্লাহ্‌ তা’আলার সাহায্যে আল-কায়েদা ইরাকের চূড়ান্ত প্রতিরোধের পর একে একে বিশাল, বিস্তৃত ভূখণ্ড মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

    পর দায়িত্বে আসেন শায়খ আবু হামজা আল মুহাজির (রহ)। অতঃপর ইরাকে ইসলামী ইমারাহ (ISI) ঘোষণা করা হলে তার আমির ঘোষিত হোন শায়খ আবু উমার আল বাগদাদী (রহ)।

    শায়খ আবু উমার (রহ)’র শাহাদাতের পর দায়িত্ব পায় আবু বকর আল বাগদাদি যিনি বর্তমান IS’র আমির।

    প্রাগুক্ত সকলেই আল-কায়েদা সেন্ট্রালের আমির শায়খ আইমান আজ জাওয়াহিরি (হাফি)’র কাছে বায়াহবদ্ধ ছিলেন।

    ২০১১ সালে সিরিয়ান বিপ্লবের পর জিহাদে শরীক হয় ISI. তখন বিভিন্ন মুজাহিদিন গ্রুপের সাথে মিলে জিহাদে শরীক থাকে তারা। কিন্তু পরবর্তীতে আরও বেশ কিছু অঞ্চল দখল হওয়ার পর ISI’র পদস্খলন শুরু হয়। বাগদাদি গং কেন্দ্রীয় নেতাদের কিছু না জানিয়ে ঘোষণা করে ISIS।

    আল-কায়েদার বায়াহ ভঙ্গ করার পর সিরিয়া ও ইরাকে মুজাহিদিনদের উপর ঢালাও আক্রমণ ও হত্যাকান্ড চালানো শুরু করে ISIS। ফিতনা এড়াতে স্বাধীনকৃত ভূখণ্ডগুলো ISIS এর হাতে ছেড়ে দেন সিরিয়ার মুজাহিদিনরা।

    এমনকি আইএসের রাজধানী ‘রাক্কা’ স্বাধীন করেছিলই সিরিয়ার মুজাহিদিনরা।

    পরবর্তীতে দুনিয়ার প্রায় সকল ইসলামী সংগঠন ও অধিকাংশ উলামায়ে কেরামকে কাফির ঘোষণা করে আই-এস।

    ২০১৪ তে খিলাফাহ ঘোষণা করে আই এস। দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জিহাদি গ্রুপ ‘খিলাফাহ’র মায়াজালে আটকে তাদের অনুসরণ শুরু করে।

    এই খিলাফাহ অবৈধ খিলাফাহ। শার’ঈ ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের জন্য নিম্নোক্ত বাংলা অডিও লেকচারগুলো শোনার আহ্বান রইলো –

    ১/ https://archive.org/details/KhilafatDaabiOBastobota1
    ২/ https://archive.org/details/KhilafatDaabiOBastobota2

    IS এর অপরাধের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ভিডিও –
    ১/ https://www.youtube.com/watch?v=XD_XUK7J0UE
    ২/ https://youtu.be/FoWAvDC-P08
    ৩/ https://youtu.be/AJRrhWGtMzs

    আই এসের ব্যাপারে মুজাহিদিন উলামা-উমারাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট। বৈশ্বিক জিহাদের মাঝে বিভাজন ধরানোর মত জঘন্য ফিতনা সৃষ্টি করেছে বায়াহ ভঙ্গকারী আই এস। এরচেয়েও জঘন্য বিষয় হচ্ছে তারা মুজাহিদিনদের হত্যা করেছে। মুসলমানদের তাকফির করার পর তাদের হত্যা করেছে। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের হিদায়াত দিন।

    #তবে আমেরিকা-ভারত ও তাদের ক্রুসেডার মিত্র, রাফেজি শিয়া ও মুরতাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে আই এসের অবস্থান মুজাহিদিনরা সমর্থন করেন। অর্থাৎ, শার’ঈ ভাবে আই এস হালাল রক্ত প্রবাহিত করলে আমরা তা সমর্থন করি। যেমন – কুফরের কেন্দ্র আমেরিকায় অরল্যন্ডো আক্রমণ একটি চমৎকার আক্রমণ।

    শায়খ আইমান আজ জাওয়াহিরি (হাফি) বলেন,

    “আমরা বাগদাদীর খিলাফাতকে স্বীকৃতি দেই না এবং এটা নবুয়্যতের আদলে খিলাফাহ মনে করি না। এর অর্থ এই নয় যে, তার সমুদয় সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ আমরা অবৈধ মনে করি। তার যেমন রয়েছে পাহাড়সম ভুল তেমনি রয়েছে যথার্থ কিছু পদক্ষেপও।

    তার ভুলের ফিরিস্তি যতই বড় হোক না কেন আমি যদি ইরাক বা শামে উপস্থিত থাকতাম; খৃষ্টান, ধর্মনিরেপেক্ষতাবাদী, সাফাবী ও নুসাইরীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই তার দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করতাম। কারণ, বিষয়টি এসবের অনেক উর্ধ্বে। এটি হচ্ছে খৃস্টানদের হামলার মুখোমুখি মুসলিম উম্মাহর সমস্যা। তাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই হামলার মোকাবেলা করা সকল মুজাহিদের অপরিহার্য দায়িত্ব।”
    (ইসলামী বসন্ত সিরিজ, ১ম পর্ব।)

    এটাই চূড়ান্ত।

    এবং আল্লাহ্‌ তা’আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    আর তাদের প্রতি ২টি নসীহাহ থাকবে-
    .
    ১। “আপনারা এমনসব লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করুন যার ব্যাপারে শরীয়াতের অনুমোদন আছে। কোন নও-মুসলিম কিংবা নাস্তিকতা-কুফরীর প্রমাণ নেই এমন কোন টার্গেটকে আক্রমণ করা উচিত হবে না। মুসলিম হওয়ার নূন্যতম সম্ভাবনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।

    আমাদেরকে মনে রাখতে হবেঃ ইসলামি শারিয়াতে একজন মুসলিমের রক্ত ঝরানো অনেক বড় ব্যাপার। ভুলেও যেন একজন মুসলমানের রক্তও প্রবাহিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা অবশ্য কর্তব্য। এদেশে তো দীর্ঘদিন থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান কাজ করে চলেছে। এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের জঘন্য অপরাধসমূহের ব্যাপারে সাধারণ মুসলিম ও মুজাহিদগণ সকলেই অবগত। এ সকল ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে আক্রমণ করে মুসলিম জনগণকে জিহাদের চেতনায় উজ্জীবিত করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ”।
    .
    ২। পাশাপাশি জিহাদের কৌশল প্রণয়ণে শরিয়াহ প্রদত্ত সীমারেখা, এই ভূমির ভৌগলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, মুসলিমদের আচরণগত বৈশিষ্ট্য, ইসলামের প্রতি তাদের আবেগ, ইসলামি দলগুলির মানহাজ, আলেম-উলামাদের সমর্থন, তাঁদের আকিদাহ্ ও ফিকহ্‌, সাধারণের সাথে ইসলাম ও উলামাদের সম্পর্কের উষ্ণতা, জিহাদের মানহাজের উলামা-তলাবা ও সাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি, এই ভূমিতে জিহাদের মাধ্যমে শারিয়াহ্ প্রতিষ্ঠার ফরজিয়াতের ব্যাপারে সাধারণের সচেতনতা, তাগূতের সামর্থ্য, এর গোয়েন্দা বাহিনী, র্যাব, পুলিশের সামরিক সামর্থ্যের দৌঁড় এবং সামরিক বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট শক্তি সামর্থ্য অর্জন ইত্যাদি বিষয়গুলি খেয়াল রাখা দরকার।

    আল্লাহ্‌ তা’আলা সহজ করুন। আমীন।

    সংগৃহীত

     
c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel
Create your website at WordPress.com
Get started